অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে উত্তরাঞ্চলের জেলা নওগাঁয়। সম্প্রতি জেলা শহরের মোট চৌষট্টিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিযুক্ত ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল নজরদারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে একটি বিশেষায়িত ‘এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সার্ভিলেন্স অ্যান্ড সাইবার ল্যাব’।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আধুনিক ল্যাবটির শুভ উদ্বোধন করেন নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সুধী সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের কৌশলগত স্থানগুলোতে বসানো এই ক্যামেরাগুলো কেন্দ্রীয় মনিটরিং রুম থেকে সারা দিন ও রাত অবিচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এসব আধুনিক ক্যামেরায় যুক্ত রয়েছে বিশেষ ফেস ডিটেকশন ও রিকগনিশন প্রযুক্তি, যার সাহায্যে যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে কেন্দ্রীয় সতর্কবার্তা জারি করা সম্ভব। এছাড়া চুরি হওয়া কিংবা নজরদারিতে থাকা যেকোনো মোটরযানের নম্বর প্লেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার পাশাপাশি রিয়েল-টাইম ডেটাবেজের সঙ্গে তথ্য মেলানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এই সিস্টেমে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু উল্লেখ করেন যে, পুলিশের কার্যক্রমে গতিশীলতা ও জনবান্ধব ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ডিজিটাল নজরদারির ফলে একদিকে যেমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে, অন্যদিকে শহরের অবিন্যস্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাও অনেক বেশি সুশৃঙ্খল হয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ জানান, পুরো রাজশাহী বিভাগের মধ্যে অগ্রগামী জেলা হিসেবে একমাত্র নওগাঁয় প্রথম এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ এআই ক্যামেরাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হলো। পর্যায়ক্রমে শহরের পরিধি বাড়িয়ে আরও বেশি এলাকা এই ডিজিটাল সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এই সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে স্থানীয় সুধী সমাজ ও সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।