বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের সরাসরি ভোটে ২৫৫ ভোট পেয়ে তিনি জয়লাভ করেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের এই প্রক্রিয়াটি দেশের রাজনীতিতে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আপসহীন অবস্থানের জন্য পরিচিত মির্জা ফখরুলের এই জয়কে তার কর্মময় জীবনের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ঠাকুরগাঁওয়ের সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা ও বিসিএস ক্যাডার হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে আসা এই নেতার রয়েছে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে চরম প্রতিকূল সময়ে দলটিকে সুসংগঠিত রেখেছেন। তার মার্জিত আচরণ ও আপসহীন ব্যক্তিত্বের কারণে রাজনীতির মাঠে ‘দ্য জেন্টলম্যান’ হিসেবেও তিনি বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন।
যদিও মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার ঘটনাকে বিএনপির সমর্থকরা তার রাজনৈতিক যোগ্যতার ফসল হিসেবে দেখছেন, তবে বিরোধী পক্ষ ও বিশ্লেষকদের একাংশ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। সরাসরি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদে থাকা একজন নেতা রাষ্ট্রপতির মতো নিরপেক্ষ সাংবিধানিক পদের মর্যাদা কতটা রক্ষা করতে পারবেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় পরিচয় ছাপিয়ে তিনি কতটা সর্বজনীন অভিভাবক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন।