চট্টগ্রাম শিশু আয়াত হ/ত্যা মামলা: ঘাতক আবীরের মৃত্যুদণ্ড
Reporter Name
Update Time :
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
১৯
Time View
চট্টগ্রাম শিশু আয়াত হ/ত্যা মামলা: ঘাতক আবীরের মৃত্যুদণ্ড
জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকার ৫ বছরের অবুঝ শিশু আয়াতকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা ও লাশ ছয় টুকরো করার ঘটনায় একমাত্র আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবীর আলী কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল। রায় শুনে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও, আয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত এই রায় বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। আড়ালে লুকিয়ে ছিল ‘মুক্তিপণ’ ও নির্মমতা আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর ইপিজেড থানার নয়ারহাট...
34
জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকার ৫ বছরের অবুঝ শিশু আয়াতকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা ও লাশ ছয় টুকরো করার ঘটনায় একমাত্র আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবীর আলী কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল। রায় শুনে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও, আয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত এই রায় বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
আড়ালে লুকিয়ে ছিল ‘মুক্তিপণ’ ও নির্মমতা
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় নিজ বাড়ির পাশে মসজিদে আরবি পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু আয়াত। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেশী আবীর আলীকে গ্রেপ্তার করলে বেরিয়ে আসে এক লোমহর্ষক ও নৃশংস কাহিনী।
তদন্তে জানা যায়, স্রেফ ‘মুক্তিপণের’ টাকার জন্য আয়াতকে অপহরণ করেছিল আবীর। কিন্তু অপহরণের পর তাকে লুকিয়ে রাখার মতো নিরাপদ কোনো জায়গা না পেয়ে, ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অবুঝ শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সে। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; অপরাধ লুকাতে আয়াতের মরদেহটিকে ছয় টুকরো করে প্যাকেটে ভরে আউটার রিং রোড সংলগ্ন সাগরে ভাসিয়ে দেয় ঘাতক আবীর।
সাগরে মিলেছিল খণ্ডিত দেহ
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর আউটার রিং রোডের আকমল আলী ঘাট সংলগ্ন স্লুইস গেটের একটি গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং এর পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই। অবুঝ শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে তখন পুরো দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছিল।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও রায়
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, গত শনিবার এই মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছিল। মামলায় আদালত মোট ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ পর্যালোচনার পর আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। অপরাধের গুরুত্ব ও নৃশংসতার বিবেচনায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি ‘ফাঁসির’ আদেশ দেন।
আইনজীবীরা জানান, এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে এটিই বার্তা যাবে যে, শিশুদের ওপর হওয়া যেকোনো নির্মমতার বিচার এ দেশে নিশ্চিত এবং অপরাধী পার পাবে না।