সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন
Title :
৪০০ মাদরাসার অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদ শূন্য, দেখে নিন তালিকা ছাত্রলীগ পরিচয়ে সোনা ছিনতাই, ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদকসহ গ্রেফতার ৩ আবারও ইরানে আমেরিকার হামলা, প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি আইআরজিসির আওয়ামী জামানায় জামায়াত কখনো সংসদ ভবনের আশপাশে গেছে? রাশেদ খানের প্রশ্ন ফোনালাপে ‘বোঝাপড়া’ নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সালমান এফ রহমানের পক্ষে লড়তে বিদেশি আইনজীবীর আবেদন গুমের তদন্তে বাহিনীকে চায় না জামায়াত জোট প্রাথমিক বৃত্তির টাকার হার নির্ধারণ, কারা কত টাকা পাবে খারাপ আচরণ-অনুপস্থিতিসহ যেসব কারণে বন্ধ হতে পারে বৃত্তির টাকা ১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব

গুমের তদন্তে বাহিনীকে চায় না জামায়াত জোট

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ Time View
19

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, মানবাধিকার কমিশনকে গুমের তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ পুনর্বহাল, আওয়ামী লীগ আমলের গুমের বিচারের দাবিতে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ও স্পিকারকে স্মারকলিপি দিয়েছে। বয়কট করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটির ব্যানারে গতকাল রোববার রাজধানীর বাংলামটরে সমাবেশ হয়। এতে সংহতি জানায় ১১ দল। সেখান থেকে পদযাত্রা করে সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নেন জোটের নেতাকর্মী, গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা।

পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেনকে গুমের মূল হোতা আখ্যা দিয়ে তাদের বিচার দাবি করেন তারা।

পদযাত্রা সড়ক অতিক্রমের সময়ে বিকেল ৪টার দিকে অফিস ছুটির সময়ে কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট এলাকা যান চলাচল বন্ধ হয়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়।
পদযাত্রার সামনে-পেছনে ছিল পুলিশের বেষ্টনী। অধিবেশন চলাকালে সংসদ এবং আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা ভঙ্গ করে সংসদের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের প্রবেশপথে জমায়েত হয় ১১ দল। কয়েক সারিতে পুলিশ প্রবেশপথ আগলে দাঁড়ায়। ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে ১১ দল। গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন আইনের বিল স্থায়ী কমিটিতে যাচাইয়ের বৈঠক বয়কট করে সমাবেশে যোগ দেন বিরোধী দলের এমপিরাও।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পাস করেনি বিএনপি সরকার। আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত বৃহস্পতিবার সংসদে বিল তুলেছে। সরকারি দল।

অধ্যাদেশে বিধান ছিল, গুমের অভিযোগ তদন্ত করবে মানবাধিকার কমিশন। বিচার করবেন ট্রাইব্যুনাল। কমিশন সন্দেহজনক গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করতে পারবে। কিন্তু বিলে বলা হয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করবে যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা বাদে অন্য বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী। বিচার হবে জজ আদালতে। কমিশন চাইলেই সন্দেহজনক গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করতে পারবে না।

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে বিধান ছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে কমিশন। কারাগারসহ যে কোনো স্থাপনা বিনা অনুমতিতে পরিদর্শন করতে পারবে। কমিশনে নিয়োগ বাছাই কমিটিতে সরকারের একচেটিয়া প্রভাব থাকবে না। নতুন আইনের বিলে এসব বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে।

সংসদের সামনে সমাবেশ
বিরোধী দলের অভিযোগ গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন বিল থেকে এসব বিধান বাদ দেওয়ার মাধ্যমে সরকার গুমের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে। তদন্ত এবং বিচারের পথ রুদ্ধ করেছে।

সংসদ ভবনের সামনের সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অধ্যাদেশ বাতিল করে, গুমের ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের হাতে দিয়ে এই সরকার আবার গুম করার ষড়যন্ত্র করছে। গুম প্রতিরোধের অধ্যাদেশ পুনর্বহাল করতে হবে। যারা গুম করে, তাদের কাছে তদন্তের দায়িত্ব থাকতে পারে না।

আওয়ামী লীগ আমলে দুই দফা গুম হয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার (অব.) হাসিনুর রহমান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্মারকলিপি দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের উদ্বেগগুলো তাঁকে জানিয়েছি। তিনি দ্বিমত করেননি। সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

নতুন বিলে বিধান করা হয়েছে গুমের মিথ্যা অভিযোগ করলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড হবে। হাসিনুর রহমান বলেন, যেভাবে আইন করা হচ্ছে, তাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীও প্রমাণ করতে পারবেন না যে, তাঁর স্বামীকে গুম করা হয়েছিল। আমরা এ ধরনের আইন চাই না।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সরকার যেসব বিল আনছে, তা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের চেয়ে খারাপ।

শেখ হাসিনার শাসনামলে আট বছর গুম ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাশেম আরমান এমপি। তিনি সমাবেশে বলেন, বাংলার মাটিতে আর কারও যেন মানবাধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, আর যেন ফিরে না আসতে পারে গুম। তাই এমন আইন করা উচিত, যাতে কোনো সরকার গুম করার আগে ১০ বার চিন্তা করে। গুমবিরোধী আন্দোলন চলবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, রোকেয়া বেগম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, খেলাফত আন্দোলনের একাংশের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈম, গুমের শিকার এবি পার্টির নেতা শাহাদাৎ হোসেন টুটুল, জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।

পদযাত্রার আগে বাংলামটরের সমাবেশে বক্তব্য দেন ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, ব্রিগেডিয়ার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

বিরোধী দলের বৈঠক বর্জন
গতকাল দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল নিয়ে বৈঠক বর্জন করেন বিরোধী দলের দুই এমপি। তারা হলেন জামায়াতের নূরুল ইসলাম ও কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন। এর আগে সকালে আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে অংশ নিলেও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়েও আলোচনায় বিরত থাকে বিরোধী দল।
স্বরাষ্ট্রের স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বৈঠকে বলেন, কোনো সদস্যের সংশোধনী বা মতামত থাকলে তা সভায় উপস্থাপন করা, পরামর্শ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে বিরোধিতা করার সুযোগ রয়েছে। সভা থেকে ওয়াকআউট সংসদীয় রীতিনীতিতে পড়ে না।

সংসদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। মব তৈরির চেষ্টা চললেও রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেনি।

বাগেরহাটের মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের অপহরণের দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়। একে দোষারোপের রাজনীতি আখ্যা দিয়ে তা পরিহার করা উচিত বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ পরীক্ষা করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিলটি সংসদে পাঠানো হবে। বৈঠকে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ রকিবুল ইসলাম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং শিরীন সুলতানা।

বৈঠক বর্জনের বিষয়ে আবদুল বাতেন বলেন, বিলটি দুর্বল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীবান্ধব। আমাদের দাবি ছিল অধ্যাদেশের অনুযায়ী বিল পেশ করা হোক। এ দাবি পূরণ না হওয়ায় বিল পাসের কোনো প্রক্রিয়ায় থাকব না।

রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক সমাজের মতামত উপেক্ষা করে জাতীয় মানবাধিকার বিল পাসে সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা’ দাবি করে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিলে আলোচনা বর্জন করে বিরোধী দল। বিরোধী দলের মুখপাত্র ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, বিলটি পাসের প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই বিরোধী দল থাকবে না।
গতকাল স্থায়ী কমিটিতে সম্পত্তি হস্তান্তর ও মানবাধিকার বিল নিয়ে আলোচনা হয়। বিরোধী দল সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের আলোচনায় অংশ নেয়। নাজিবুর রহমান বলেন, মানবাধিকার বিল আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মানবাধিকার কমিশনকে আরও দুর্বল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এমনকি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগও সীমিত। নাজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, স্থায়ী কমিটির হাত-পা বেঁধে মাত্র দুদিনের মধ্যে বিলের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটিকে রাবার স্ট্যাম্প করে ফেলা হয়েছে। তাই বৈঠক বর্জনে বাধ্য হয়েছি। বিলকে বিতর্কিত ও কালো আইন আখ্যা দিয়ে নাজিবুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তাহলে জনগণকে রক্ষার জায়গা রাখা হয়নি। এর কোনো দায়ভার আমরা নিতে চাই না।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com