কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খোকসা পৌর এলাকার মাঠপাড়া গ্রামে একটি মসজিদ ও কবরস্থানের জমিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং নামকরণের বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি বিকেলে সংঘটিত এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় অর্ধশত বছর আগে মাঠপাড়া গ্রামে ওয়াকফ করা প্রায় দুই একর জমির ওপর যামিনী-কামিনী কবরস্থান প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ওই প্রতিষ্ঠানের আয়ের অর্থ দিয়ে প্রায় দুই দশক আগে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। বিগত সরকারের আমলে মসজিদটির নাম ‘কুদ্দুসিয়া জামে মসজিদ’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে স্থানীয় মুসল্লিরা একটি নতুন কমিটি গঠন করে মসজিদটির নাম পরিবর্তন করে ‘মাঠপাড়া জামে মসজিদ’ বা ‘খোকসা মাঠপাড়া জামে মসজিদ’ করার সিদ্ধান্ত নেন। আর এই নাম পরিবর্তন নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।
নামকরণ পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় বিলুপ্ত কমিটির লোকজন সম্প্রতি মসজিদের প্রধান ফটকে পূর্বের নাম সংবলিত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। এর জেরে গত কয়েকটি জুমার নামাজের পর থেকেই সাবেক ও নতুন কমিটির লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে চলতি মাসের চার তারিখে বিকেলে সেই উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একটি পক্ষের অভিযোগ, বিগত কমিটির নেতারা মসজিদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে অনুদান এনে তা আত্মসাৎ করেছেন এবং হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়ে জোরপূর্বক পুরোনো সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি গোলাম ছরোয়ার দাবি করেছেন যে সাধারণ মুসল্লিদের মতামতের ভিত্তিতেই মসজিদের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাবেক কমিটির লোকজন কোনো আলোচনা ছাড়াই কুদ্দুসিয়া জামে মসজিদের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে উত্তেজনা তৈরি করেছেন। এদিকে ঘটনাস্থলে খোকসা থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত থাকলেও সংঘর্ষের ঘটনা রোধ করা যায়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানিয়েছেন যে মসজিদের কর্তৃত্ব ও নাম নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে পুলিশ সজাগ রয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।