মোঃ মাইনুল হক, নীলফামারী
বর্ষা মৌসুম মানেই উত্তর জনপদের নদীতীরবর্তী মানুষের মনে নদীভাঙন, বন্যা ও ফসলি জমি হারানোর তীব্র আতঙ্ক। তবে নীলফামারীর সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ ও পার্বতীপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ দূর হতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন নদী উন্নয়ন ও পুনর্বাসন (এনডিআর) বাজেটের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবাদে নদীতীরবর্তী এলাকার চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের ফলে ভাঙনকবলিত এলাকায় ফিরেছে স্বস্তি, আর সাইফুন নির্মাণের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। এতে এই অঞ্চলের কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এনডিআর বাজেটের আওতায় প্রায় ৪ কোটি ৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯৯৩.৬০ মিটার নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ৭টি সাইফুন তৈরি এবং দুটি আবাসিক কলোনির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এনডিআর বাজেটের আওতায় সৈয়দপুর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আটটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীতীর সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কাঠারীপাড়ায় খড়খড়িয়া নদীর তীরে, বুড়িরহাট রহিমাপুর এলাকায় যমুনাশ্বরী নদী এবং চাড়ালকাঠা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ২ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রতিরক্ষা কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী জিও-টেক্সটাইল ফেব্রিক এবং নির্দিষ্ট ওজনের জিও ব্যাগ ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বাঁধগুলোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
শুধু নদীভাঙন রোধ নয়, কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়াতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৮৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৭টি নতুন সাইফুন নির্মাণ এবং একটি সাইফুন মেরামত করা হয়েছে, যার ফলে ওই এলাকার জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পর থেকে তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সুরক্ষিত হয়েছে এবং বর্ষার আতঙ্ক অনেকটাই কেটে গেছে।
এ ছাড়াও, ২৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকারে বিভিন্ন বরাদ্দে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি আবাসিক কলোনির ভবন ও বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কার, স্যানিটারি সামগ্রী সরবরাহ, সাব-সয়েল টেস্ট এবং কলোনির মসজিদ মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান জানান, এনডিআর বাজেটের প্রতিটি প্রকল্প সরেজমিনে তদারকি করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কোথাও কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা ঠিকাদারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উত্তর জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের নদীতীরবর্তী দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী।