২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নতুন সরকারের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পার হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সরকারের সামনে শুরু থেকেই ছিল বিশাল প্রত্যাশার চাপ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা—এই চারটি মূল লক্ষ্য নিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছিল। প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের প্রাথমিক উদ্যোগগুলো ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ভূমি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং ই-নামজারি ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে এসেছে।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও কম নয়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম প্রশংসা পেলেও এর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে সাধারণ মানুষের কষ্ট এখনো কাটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হলেও পুরোপুরি নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ব্যাংকিং খাতের বিশাল খেলাপি ঋণ এবং বিনিয়োগ খাতের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সরকারের অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তটি দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সবশেষে, সরকার এখন যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে স্লোগানের চেয়ে ফলাফলের ওপরই জনগণের নজর বেশি। নিরাপদ জীবনযাত্রা এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সেবা নিশ্চিত করতে পারলে তবেই সরকারের এই যাত্রাপথ আরও মসৃণ হবে এবং জনআস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে।