ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়াসহ চলনবিলের বিস্তীর্ণ জনপদে কচুরিপানার তীব্র আগ্রাসনে কৃষকদের আমন ধান এবং আগাম রবি শস্য উৎপাদন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিলশা বিলসহ প্রায় ৭০০ হেক্টর আবাদি জমি ঘন কচুরিপানায় ঢেকে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার কৃষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা কচুরিপানা স্রোতের টানে এসে চলনবিলের বিভিন্ন প্রান্তে জমাট বাঁধছে। গুরুদাসপুর ও সিংড়ার ৩০টিরও বেশি গ্রামের বিশাল জলাভূমি এখন সবুজ কচুরিপানার চাদরে ঢাকা। এর ফলে শুধু কৃষিকাজই নয়, নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিলপাড়ের মানুষ, মাঝি ও দিনমজুরদের। পাশাপাশি পর্যটকরাও পড়ছেন নানা বিড়ম্বনায়।
কৃষকদের অভিযোগ, এক বিঘা জমি কচুরিপানামুক্ত করতে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ ছাড়াও দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। বনক্ষতির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই এই অতিরিক্ত ব্যয় কৃষকদের কোণঠাসা করে তুলেছে।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এম আলী আককাছ জানান, কচুরিপানার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত বিলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে এম রাফিউল ইসলাম জানান, এ বছর বিলে পানির প্রবাহ কম থাকায় এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দেওয়ায় কচুরিপানার বিস্তার বেড়েছে। কৃষকদের দ্রুত জমি পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।