জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মোহাম্মদ আব্দুল হালিম যোগদানের পর থেকেই এলাকার আইনশৃঙ্খলায় অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে। অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও ডাকাত গ্রেফতার এবং চোরাচালান রোধে তাঁর জিরো টলারেন্স নীতির কারণে অপরাধজগতে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মে ২০২৬ থেকে ২১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত বিভিন্ন সাঁড়াশি অভিযানে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
ওসি আব্দুল হালিমের সরাসরি নেতৃত্বে এ সময় মোট ৫৩টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৭১ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ১,২৩,২৯৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২১১ কেজি গাঁজা, ৮৫ লিটার দেশীয় চোলাই মদ এবং ৪ বোতল বিদেশি মদ। এছাড়া মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি কালো রঙের এক্স নোয়া স্কয়ার হাইব্রিড মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে।
বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ এলাকার চিহ্নিত দুই কুখ্যাত অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে একটি সেমি-অটোমেটিক ৭.৬২ প্রিসংয়ের বিদেশি পিস্তল, একটি সিলভার রঙের ম্যাগাজিন, ৯ রাউন্ড তাজা বুলেট, একটি ফোল্ডিং সুইচ গিয়ার, একাধিক দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং ২০০ মিলি ভারতীয় নিষিদ্ধ স্কপ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
চুরির ৬টি মামলার দ্রুত রহস্য উন্মোচন করে পুলিশ আন্তঃজেলা চোর চক্রের একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার এবং আদালতে সোপর্দ করেছে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি ড্রাম ট্রাক, ১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড, দুটি সিএনজি অটোরিকশা, একটি পালসার মোটরসাইকেল, ৭ কেজি তামার তার, একটি পানির পাম্প মোটর, তিনটি ইউপিএস এবং তিনটি স্পার্ক ব্যাটারি।
গত ৯ আগস্ট সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়েরের অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৭ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করে। এ সময় লুণ্ঠিত ১৫০ মিটার মূল্যবান বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অপরাধ সংঘটনের আগেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একাধিক ছিনতাই ও ডাকাত চক্রকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের বিরুদ্ধে ৪টি পৃথক মামলায় ১২ জন চোরাচালানিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ২১০ টাকার ভারতীয় চকলেট, কসমেটিকস, তেল ও একটি হাইস গাড়ি, ১৮০ পিস ভারতীয় শাড়ি (মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা), ১০০ পিস নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ১৯টি ভারতীয় গরু (মূল্য আনুমানিক ৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা)।
এই সাড়ে তিন মাসে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ৩টি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে ২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলনে পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনায় এবং পিতাকে ছেলে কর্তৃক হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপই নয়, বরং এলাকাকে স্থায়ীভাবে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা পরিচালনা করে চলেছেন।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। একটি অপরাধমুক্ত জোরারগঞ্জ গড়ে তুলতে আমরা সর্বসাধারণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করি।"