যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৬.৪৩ শতাংশ কমে ৮.৬৪ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক গড় পতনের হারের তুলনায় বাংলাদেশের এই অবনমন উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যও বৈশ্বিক হারের তুলনায় বেশি কমেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
রপ্তানি হ্রাসের পেছনে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় সংকটই দায়ী। দেশের ভেতরে তীব্র জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার কারণে কারখানায় নিয়মিত উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের অনিশ্চয়তা ক্রেতাদের মনে আস্থার সংকট তৈরি করছে। ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বাড়তি সুবিধা পেলেও, বাংলাদেশ সেই তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে নেই।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি খাতের এই ধস সামাল দিতে কেবল স্বল্পমেয়াদি প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। এর জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্যিক সুবিধা ধরে রাখতে কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন। যদি সময়মতো পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।