বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তিগুলোর মধ্যে সেবা খাত ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সেবা খাতের মোট আকার দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই খাতের পরিমাণ ছিল ২৮ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। গত কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সেবা খাত তার পরিধি বিস্তৃত করে চলেছে।
বাণিজ্য, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখা নিয়ে গঠিত এই সেবা খাতের সম্প্রসারণ মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদার পরিবর্তনের প্রতিফলন। অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষিজ ও শিল্পজাত উৎপাদনের পাশাপাশি সেবা খাতের এই বিস্তার দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলছে। তবে কেবল আকার বড় হওয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য এই খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল তৈরি করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে ফিনটেক, পর্যটন ও লজিস্টিকসের মতো সম্ভাবনাময় উপখাতগুলোতে নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এর ফলে উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সেবা খাতের মান ও বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।