দুই কোরিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের অমিমাংসিত যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার জন্য আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। সিউলে এক স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি সীমান্তে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির ঝুঁকি মোকাবিলায় উভয় পক্ষকে পারস্পরিক বিদ্বেষ ভুলে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান।
তবে সিউলের এই শান্তিপূর্ণ আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া এবং সিউলের পারমাণবিক সাবমেরিন সক্ষমতা অর্জনের প্রচেষ্টাকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। উত্তেজনার মধ্যেই গত মঙ্গলবার পিয়ংইয়ং নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যা চলতি বছর তাদের ১১তম সামরিক প্রদর্শন।
১৯৫৩ সালে অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধের অবসান ঘটলেও আনুষ্ঠানিক কোনো শান্তিচুক্তি না হওয়ায় দেশ দুটি কার্যত এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও উত্তর কোরিয়ার কঠোর অবস্থান শান্তি প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।