ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুল এবং ক্লাটারব্রিজ ক্যান্সার সেন্টার (সিসিসি)-এর গবেষক ও চিকিৎসকদের নেতৃত্বে বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের ওপর পার্সোনালাইজড ফুসফুসের ক্যান্সারের টিকার আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। লিভারপুল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস সেন্টার অন্তর্ভুক্ত এই দলটি এমন একটি বিশেষ ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা করছে, যা প্রতিটি রোগীর টিউমারে পাওয়া অনন্য জেনেটিক পরিবর্তনগুলোকে লক্ষ্য করে কাজ করতে সক্ষম।
অ্যাডভান্সড নন-স্মল সেল লাং ক্যান্সার (এনএসসিএলসি)-এ আক্রান্ত এক রোগী বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই ভ্যাকসিনটি গ্রহণ করেছেন। ইমিউনোথেরাপিতে তাঁর রোগ আংশিকভাবে সাড়া দিয়েছিল। এই ভ্যাকসিন মূলত রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (ইমিউন সিস্টেম) টিউমার কোষগুলো শনাক্ত করে সেগুলোর ওপর আক্রমণ করতে সহায়তা করবে।
টিউমার-নির্দিষ্ট লক্ষ্য শনাক্ত করতে কম্পিউটেশনাল প্রযুক্তি এবং ‘ডগিবোন ডিএনএ’ (dbDNA) নামক সিন্থেটিক ডিএনএ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পার্সোনালাইজড ভ্যাকসিন উৎপাদনে গতি বাড়াবে এবং খরচ কমানোর ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
প্রায় ২৭ লাখ পাউন্ডের অনুদান-সমর্থিত ‘NEOVACC’ ট্রায়ালের প্রথম ধাপে গবেষক, চিকিৎসক, জিনতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞদের একীভূত করা হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করছেন অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান অটেন্সমায়ার এবং অধ্যাপক নাটালিয়া সাভেলিয়েভা।
গবেষকরা জানান, যাদের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড ইমিউনোথেরাপি পুরোপুরি কাজ করেনি বা প্রাথমিকভাবে সাড়া দিলেও পরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, এই পার্সোনালাইজড পদ্ধতিটি তাদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ এনএসসিএলসি-তে আক্রান্ত হন।