ঢাকার বাজার থেকে সংগৃহীত ব্র্যান্ডেড ও নন‑ব্র্যান্ডেড মোট ছয় ধরনের সয়াবিন তেলের ৬০টি নমুনা বিশ্লেষণে প্রত্যেক লিটারে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে—গড় পরিমাপ ছিল 53,922টি কণা (±10,510)। গবেষণাটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের গবেষকদের সঙ্গে মিলিয়ে করা হয় এবং এটি আন্তর্জাতিক পিয়ার‑রিভিউড জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড এনালাইসিসে ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে নন‑ব্র্যান্ডেড তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব ব্র্যান্ডেড তেলের তুলনায় বেশি (নন‑ব্র্যান্ডেড গড়ে 59,778 ও ব্র্যান্ডেড গড়ে 48,067 কণা) এবং এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। পরীক্ষা চালাতে সলভেন্ট ডাইলিউশন, স্টেরিও মাইক্রোস্কোপ, FTIR এবং SEM প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণায় শনাক্তকৃত কণাগুলোর 82.5% ছিল ফাইবার/আঁশ জাতীয়; আকারভিত্তিকভাবে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে 101–500 মাইক্রোমিটার সাইজের কণা (প্রায় 35.84%) এবং রঙের দিক থেকে স্বচ্ছ কণার অংশগ্রহণ ছিল প্রায় 56.29%। FTIR বিশ্লেষণে ছয় ধরনের পলিমার চিহ্নিত হয়েছে—LDPE, HDPE, PP, PET, PU এবং নাইলন; গবেষকরা জানিয়েছেন ভোজ্যতেলে প্রথমবারের মতো PU ও নাইলন সনাক্ত করা হয়েছে। তারা বলছেন ব্র্যান্ডেড তেলের বিস্তার মূলত উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং সংক্রান্ত ধাপের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত হতে পারে, আর নন‑ব্র্যান্ডেড তেলে মোটা কণার আধিক্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসাব করলে গবেষকরা অনুমান করেছেন একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সরাসরি সয়াবিন তেল থেকে দিনে গড়ে 17.65টি এবং বছরে প্রায় 6,441টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন; শিশুদের ক্ষেত্রে দৈনিক অনুমান 77.21টি ও বার্ষিক প্রায় 28,180টি। সারাজীবনে একজন প্রাপ্তবয়স্কের দেহে প্রায় 4,77,000 এবং একজন শিশুর ক্ষেত্রে 20 লাখেরও বেশি কণার সঞ্চয় হতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। যদিও বর্তমানে দূষণের মাত্রা মাঝারি হলেও সামগ্রিক ঝুঁকি আপাতত কম ধরা হচ্ছে, গবেষকরা তবু উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও প্যাকেজিং প্রক্রিয়ায় তৎপর নজরদারি ও নিয়মিত পরীক্ষার সুপারিশ করেছেন। নিরাপদ খাদ্য বিশ্লেষক মাহবुबুর কবির মিলন গবেষণার ফল উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেছেন, সয়াবিন তেলের পাশাপাশি অন্যান্য ভোজ্যতেল ও খাদ্যপণ্যে ব্যাপকভাবে নজরদারি চালানো উচিত এবং বিএফএসএ ও বিএসটিআইকে এই পরীক্ষাগুলো ত্বরান্বিত করতে বলা হয়েছে।