রাজবাড়ীর খানখানাপুর লেভেল ক্রসিংয়ে তেলবাহী ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া বগির ধাক্কার ফলে একটি যাত্রীবাহী বাস, একটি মাহেন্দ্রা ও একটি অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে দুই জন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়; পথিমধ্যে খানখানাপুরের মনোয়ার পাটোয়ারী এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বালিয়াকান্দি শামোকখোলার আব্দুল মালেক মারা যান। আহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজবাড়ী দৌলতদিয়ার লিয়াকত, আশিক, গোয়ালন্দ মোড়ের নুরু শেখ, কল্যানপুরের নুরুল ইসলাম, কালুখালীর বিল্লাল ও খানখানাপুরের বলাই।
ঘটনার সময়সূচি অনুসারে, রবিবার (২৬ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর ক্রসিং থেকে রাজবাড়ী অভিমুখে একটি তেলবাহী ট্রেন ইঞ্জিনসহ কয়েকটি বগি নিয়ে রেললাইন পার হয়। পরে গেটম্যান বাধা তুলে দেবার পর কিছু সময় পর ট্রেন থেকে আলাদা হয়ে পড়া বগিগুলো মহাসড়কে চলমান যানবাহনগুলোর ওপর এসে ধাক্কা দেয়; এতে মাহেন্দ্রা গাড়িটি প্রায় ১০০ গজ পিছনে ঠেলে নেয়া হয়, অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটিও রেললাইনে ঠেলে পড়ে।
রেলওয়ে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকশি ডিভিশনের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শাকিল আহমদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও), বিভাগীয় প্রকৌশলী, বিভাগীয় যান্ত্রিক (ক্যারেজ) ও বিভাগীয় যান্ত্রিক (লোকো) রয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেটম্যান ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে; পাকশি রেলের নিরাপত্তা বাহিনীর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট মো. ফিরোজ আহম্মেদ জানান, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে—সম্ভাব্যত চলন্ত অবস্থায় হুক খুলে যাওয়ায় বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে—তদন্ত শেষ করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং আহত ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।