জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
পাহাড় আর কাপ্তাই হ্রদের মিতালি দেখতে এবারের ঈদের ছুটিতে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পর্যটকদের মিশ্র উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বাঘাইছড়ির দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ‘সাজেক ভ্যালিতে’ পর্যটকদের তিল ধারণের ঠাঁই না থাকলেও, রাঙামাটি জেলা শহরে পর্যটকের আগমন ছিল প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম। তবে ঈদের খরা কাটিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে এসে শহরের পর্যটন স্পটগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে।
মেঘের রাজ্যে উপচে পড়া ভিড়
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পরদিন থেকেই মেঘের রাজ্য সাজেকে ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পাহাড়ের চূড়ায় মেঘ-রোদের খেলা দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ভ্রমণপিয়াসীরা। সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণ দেব বর্মণ জানান, সাজেকে অবস্থিত দেড় শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ এখন পর্যটকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ। তিনি বলেন,
”পর্যটকদের এই প্রবল চাপ আরও অন্তত দুদিন থাকবে। এরপর ভিড় কিছুটা কমলেও সামনের দিনগুলোতে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।”
ভিন্ন চিত্র রাঙামাটি শহরে, দেরিতে জমছে স্পটগুলো
সাজেকে পর্যটকের এমন জোয়ার থাকলেও রাঙামাটি শহরের চিত্র ছিল ভিন্ন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটকদের একটি বড় অংশ সরাসরি সাজেক চলে যাওয়ায় শহরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে কাঙ্ক্ষিত সমাগম হয়নি। ঈদের প্রথম দুই দিন শহরের রাস্তাঘাট ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো প্রায় ফাঁকা ছিল।
তবে ঈদের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে এসে শহরের চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। শহরের প্রধান আকর্ষণ পর্যটন করপোরেশনের ঝুলন্ত সেতু, আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়ক, বড় আদাম এবং পলওয়েল পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় এখন চোখে পড়ার মতো। অনেক পর্যটককে কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমণে বের হয়ে পাহাড় ও হ্রদের মেলবন্ধন উপভোগ করতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীদের আশা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান,
“এবারের ঈদে রাঙামাটি শহরে আশানুরূপ পর্যটক আসেনি। তবে পর্যটন করপোরেশনের স্পটগুলোতে মোটামুটি দর্শনার্থী ছিল। আশা করছি সামনের পর্যটন মৌসুমে পর্যটকের আগমন আরও বৃদ্ধি পাবে।”
এদিকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে টুরিস্ট পুলিশের বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, উৎসবের আমেজ থাকায় আগামী আরও কয়েক দিন শহরের স্পটগুলোতে এই ভিড় অব্যাহত থাকবে।