জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
জন্মের পরপরই যেখানে মায়ের কোল হওয়ার কথা ছিল পরম আশ্রয়, সেখানে নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে এক নবজাতকের ঠাঁই হলো দমবন্ধ পলিথিন ব্যাগে। ডাস্টবিনের বর্জ্যের মতো ফেলে যাওয়া সেই মরণফাঁদ থেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এক সদ্যজাত কন্যাসন্তানকে। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে উত্তর সোনাপাহাড় এলাকার ভোলা সওদাগর বাড়ির মীর হোসেনের ঘরের প্রধান দরজার সামনে একটি রহস্যময় পলিথিন ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও আচমকা ব্যাগটির ভেতর থেকে এক নবজাতকের ক্ষীণ কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে। উৎসুক পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ব্যাগটি খুলে ভেতরে এক ফুটফুটে সদ্যজাত কন্যাসন্তান দেখতে পান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটিকে অত্যন্ত অমানবিক ও মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে যাওয়া হয়েছিল। তখনো তার শরীরের নাড়ি কাঁচা ছিল। কোনো এক অন্ধকার মুহূর্তে দুর্বৃত্তরা শিশুটিকে মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নবজাতকটিকে একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমান।
পরে স্থানীয় সচেতন লোকজন কালক্ষেপণ না করে শিশুটিকে উদ্ধার করে বারইয়ারহাট পৌরসভার ‘শেফা ইনসান হাসপাতালে’ নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের নিবিড় ও তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় নতুন জীবন ফিরে পায় শিশুটি।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এস. এ ফারুক বলেন, “সকাল ১১টার দিকে যখন শিশুটিকে আনা হয়, তখন তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে শিশুটি এখন আশঙ্কামুক্ত এবং সুস্থ রয়েছে।”
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত তৎপরতা শুরু করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক। আমি নিয়মিত শিশুটির খোঁজখবর রাখছি। নবজাতকের সার্বিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসায় প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এর পেছনে কারা জড়িত তা তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একটি জীবিত শিশুকে এভাবে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় জোরারগঞ্জ এলাকায় তুমুল নিন্দার ঝড় বইছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।