ইরান এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চালাচ্ছে না এবং ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হবে কিনা সেটা সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের আচরণ বদলানোর ওপর নির্ভর করবে—এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। সোমবার (২৭ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন বিবৃতি দেন এবং তেলিহিানে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে যে সংবাদ এসেছে তা কটাক্ষ করে প্রত্যাখ্যান করেন। মেহর নিউজ এজেন্সিকে বাঘেই বলেছেন, কূটনীতি ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এবং বিষয়টি নিয়ে তারা কোনো দ্বিধা রাখে না।
বাঘেই একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান কিছু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে চলতে পারে; তিনি পাকিস্তান, ওমান ও কাতারের নাম উল্লেখ করেন। অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন ওআরএফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তার প্রতিশ্রুতি পালন না করার অভিযোগও করেন এবং বলেন, ওয়াশিংটন বহুবার সম্মতিপত্রের ধারা খর্ব করেছে ও কূটনীতিকে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি দাবি করেন, সমঝোতার ২১ বা ২২ দিন পর হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত একটি ঘটনা পেছনে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপকে বৈধতা দিয়েছে, যেখানে তেলিহান নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করেছে।
আলোচনা শুরু হওয়ার শর্ত হিসেবে বাঘেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রমাণ করতে হবে এবং একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের মতো চালচলন শেখাতে হবে; গত এক থেকে দুই বছরে আন্তর্জাতিক আইন অগ্রাহ্য করে ওয়াশিংটন ‘‘মাফিয়া গ্যাং’র মতো’’ আচরণ করেছে—এমন উদ্ভাস ঘটিয়েছেন তিনি। এর আগে ইরানির সামরিক মুখপাত্র আমির মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছিলেন, গত দুই দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো হামলা চালায়নি এবং ইরানও তাদের পাল্টা অভিযান স্থগিত রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা আক্রমণের পর নতুন করে আঘাত না করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন জানিয়েছে; সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা দুই পক্ষের হামলা ও প্রতিহামলার ফলে তীব্রতর হয়েছে। (উৎস: Jagonews24)