বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

ভুলেও যারা তরমুজ খাবেন না

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৯ Time View
83

চলছে চৈত্র মাস। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন। বসন্তের এই গরমে তরমুজের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। এতে প্রচুর পরিমাণে জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। তবে এই ফল সবার জন্য সমান উপকারী নয়। ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের তরমুজ খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা উচিত। জেনে নেওয়া যাক কোন কোন ক্ষেত্রে তরমুজ এড়িয়ে চলা ভাল।

কিডনির সমস্যা থাকলে

তরমুজে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি। যাঁদের কিডনি ঠিকমতো কাজ করে না, তাঁদের শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়াম জমে যেতে পারে। এর ফলে ক্লান্তি, পেশিতে দুর্বলতা এমনকি হৃদযন্ত্রের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত তরমুজ খেলে শরীরে ফোলা ভাব তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে

তরমুজে প্রাকৃতিক চিনি থাকে এবং এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে বেশি। অর্থাৎ এটি খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে হঠাৎ রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়া এবং দ্রুত নেমে যাওয়া, দুটোই ক্ষতিকর হতে পারে। তাই তাঁদের নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তরমুজ খাওয়া উচিত।

লিভারের সমস্যায় ভুগলে

তরমুজে থাকা ফ্রুক্টোজ নামক প্রাকৃতিক চিনি লিভারের রোগীদের জন্য হজম করা কঠিন হতে পারে। এতে ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যা আরও বাড়তে পারে। আগে থেকেই লিভারের অসুখ থাকলে তরমুজ খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি।

হজমের সমস্যা থাকলে

অ্যাসিডিটি, গ্যাস, পেট ফোবা বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য তরমুজ সমস্যার কারণ হতে পারে। এতে থাকা ফাইবার ও প্রাকৃতিক উপাদান কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অম্বল বা বদহজম বাড়িয়ে দিতে পারে।

অ্যাজমা বা অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে

তরমুজে থাকা লাইকোপিন বা কিছু এনজাইম সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ওরাল অ্যালার্জি সিনড্রোমের উদ্রেক করতে পারে। এর ফলে গলা চুলকানো, শ্বাসনালিতে অস্বস্তি বা ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। যাঁদের অ্যাজমা, অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তরমুজ খাওয়াই শ্রেয়।

তরমুজ নিঃসন্দেহে গরমের অন্যতম উপকারী ফল। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, ক্লান্তি দূর করে এবং সতেজতা এনে দেয়। তবে স্বাস্থ্যগত বিশেষ কিছু সমস্যায় ভুগলে অন্ধভাবে ‘স্বাস্থ্যকর’ তকমা দেখে যে কোনও খাবার খাওয়া ঠিক নয়।

সঠিক পরিমাণ ও ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করেই একটি খাবার উপকার বা অপকার, দুই-ই করতে পারে। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, শরীরের সঙ্কেত বুঝুন, আর তবেই উপভোগ করুন গরমের এই রসালো ফল। সুস্থ থাকার চাবিকাঠি হল সচেতনতা ও সংযম।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com