সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত এ সমুদ্রসৈকত দেশের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। কিন্তু ক্রমেই এ সৈকতের বেলাভূমি ছোট হয়ে আসছে।
উপকূলীয় ভাঙন, পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড, ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি আর দূষণ-দখলে দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে সৈকতের বেলাভূমি, সৌন্দর্য হারাচ্ছে পুরো সৈকত এলাকা। অন্যদিকে বিপদাপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রটি দিন দিন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জলোচ্ছ্বাস, উচ্চ জোয়ার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৈকতের বিভিন্ন অংশে ভূমিক্ষয় ও ভাঙন বাড়ছে। বঙ্গোপসাগরের তীব্র ঢেউয়ের ঝাপটায় তীরের বালিক্ষয়, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ধ্বংস ও সংরক্ষিত বনের উপকারভোগীদের নির্বিচারে বন নিধন এ উপকূলকে গত কয়েক দশকে বিপন্ন করে তুলেছে। তিন দশকের ব্যবধানে প্রায় আড়াই কিলোমিটার বনভূমি সমুদ্রে বিলীন হয়েছে। বিশেষত ২০১০ সালের পর কুয়াকাটা সৈকত ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়ে। এর পর থেকে দুই হাজার মিটারের বেশি সৈকত এলাকা সাগরে বিলীন হয়েছে। সংকুচিত হয়ে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে জোয়ারের সময় বেলাভূমিতে আর হাঁটার জায়গা থাকে না, পুরোটাই পানির নিচে চলে যায়।
সৈকতকে ভাঙন থেকে রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগে জিও টিউব ও জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। কিন্তু এগুলো সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। সরজমিনে দেখা গেছে, জিও টিউব ও জিও ব্যাগের কারণে বিপজ্জনক ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটকদের জন্য এসব গর্ত যেন মরণফাঁদ। সমুদ্রে জোয়ারের পানিতে গোসলে নেমে জিও ব্যাগের শ্যাওলায় পা পিছলে দুর্ঘটনায় পড়ছে নানা বয়সী মানুষ।
জোয়ার নেমে গেলে পুরো সৈকতে ফুটে ওঠে এক বিধ্বস্ত চেহারা। বিভিন্ন গর্তে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকে। উঁচু-নিচু খাদের কারণে মানুষকে স্বাভাবিক চলাফেরায়ও বেগ পেতে হয়।
বিভিন্ন ভাঙা স্থাপনার কংক্রিট, রড ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে। এগুলোতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। জিও ব্যাগের স্তরে কিংবা ভাঙা স্থাপনায় আটকে আছে প্লাস্টিক ও বিভিন্ন বর্জ্য।
পর্যটকরা অনেকেই জোয়ারের সময় প্রথমবার সৈকতে এসে কোনো ধারণা ছাড়াই গোসলে নেমে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। তাদের সতর্ক করার জন্য সৈকতে নেই কোনো সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা জরুরি চিহ্ন।
শহিদুল আলম, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: