মোঃ ওমর ফারুক, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি।
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দুর্গম পাড়ায় সাম্প্রতিক পাহাড়ি বন্যায় একমাত্র যোগাযোগ সড়কটি ভাঙার ফলে স্থানীয়রা অচল পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। সড়ক ধসে পরবর্তী অংশগুলি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে যাওয়ায় সাতটি পাড়ার কয়েকশত বাসিন্দার চলাচল ও জীবিকার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে।
প্রভাবিত পাড়াগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যছালং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চারটি খুমী পাড়া এবং তিনটি ম্রো পাড়া। স্থানীয়রা জানান, এসব পাড়ার মানুষ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত ওই সড়কেই একমাত্র যাতায়াতের নির্ভরযোগ্য পথ পেয়েছিল। এখন সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চলাফেরা প্রায় বন্ধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সাপ্লাই সংকট দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী বলছেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সুপারিশে সড়কটির পূর্ণ সংস্কারের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সড়কটি দীর্ঘদিন থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এবং সাম্প্রতিক বন্যায় তা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নাং ফ্রা খুমী বলেন, “বান্দরবান-কুমা সড়ক থেকে সংযোগকারী এ সড়কটি পাহাড়ি ঢলে পুরোপুরি ভেঙে গেছে। খুমী ও ম্রো অধ্যুষিত ওই দুর্গম পাড়াগুলোতে চলাচল ও সেবা নিশ্চিহ্ণ হয়ে পড়েছে। বিষয়টি জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কাছে উঠেছে এবং আমরা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয়রা আশা করছেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এই সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কার করা হবে। তারা বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজ হলে দুর্গম এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে ও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ দৈনন্দিন জীবন আবার স্বাভাবিক হবে।
আক্ষেপ করে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত এবং কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে এবং তারা আশা করছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ত্বরিত ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকটের স্থায়ী সমাধান করবে।