চলতি অর্থবছরে মোট ৪১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নিম্ন আয়ের নারীপ্রধান পরিবার বাছাই করে এই কার্ড দেওয়ার পরীক্ষামূলক কাজ চলমান। আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
তবে এই কার্ড আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। আর উপকারভোগীরা টাকা পাবেন সরকারি তিন ব্যাংকের মাধ্যমে।
সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সমাজকল্যাণসচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কর্মসূচির সর্বশেষ অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এতে কর্মসূচিটির নানা দিক উঠে আসে। বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে যে পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে সরকারি চাকরি, পেনশনভোগী, উচ্চমূল্যের সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক বা গাড়ির মালিকসহ বিভিন্ন কারণে ৫ হাজার ৯৩৪টি পরিবারকে অযোগ্য হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। ৪৯৮ উপজেলার উপকারভোগীদের ভাতা দেওয়ার জন্য যুক্ত থাকবে তিন ব্যাংকের ৩ হাজার ৭২টি শাখা।
এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে যাতে কোনো উপযুক্ত ব্যক্তি বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ অন্তর্ভুক্ত না হন, সে জন্য তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ ও পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ দরিদ্র থেকে নিম্নবিত্ত, নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত হতে পারেন। আবার মধ্যবিত্ত থেকেও কেউ দরিদ্র হয়ে যেতে পারেন। এ কারণে মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য নিয়মিত সংশোধন করা হবে।