জাহাঙ্গীর আলম, বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর উত্তরাঞ্চলের কোনোটিতে নেয়া হবে—এ দাবিতে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল দ্বিতীয় দিনেও বজায় রয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) ভোর থেকেই আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ ও পিকেটিং করে রাখায় আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং সাধারণ যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
শুক্রবার নয়, গত রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকেই শুরু হওয়া এই সর্বাত্মক কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন তাদের দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সোমবার সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজারসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে অবস্থান নেওয়া হয়। সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ মিছিলের কারণে ঢাকা–ফেনী–খাগড়াছড়ি রুটের ফটিকছড়ি অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পেলাগাজী দীঘি–হেয়াঁকো সড়কে সব ধরনের যান বন্ধ রয়েছে। বাস, ট্রাক, পিকআপ ও সিএনজি আটকা পড়ে বহু দূরপাল্লার যাত্রী বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে বা বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে অন্তত ২০-২৫টি জায়গায় সমবেতভাবে পিকেটিং ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সাধারণ জনজীবনের খেয়াল করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান, ফার্মেসি, হাসপাতাল-ক্লিনিক ও জরুরি সেবা ছাড়াই রাখা হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের বক্তব্যে নারায়ণহাটের আলী আকবর অভিযোগ করেন যে সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় নেওয়া হয়েছে যা অনুচিত ও জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে; কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানেই দুটি উপজেলা সদর রাখা সিদ্ধান্তের কোন যৌক্তিকতা নেই এবং এতে নতুন উপজেলার উদ্দেশ্যই ক্ষুণ্ন হবে। অন্য একজন আন্দোলনকারী রাহাত বলেন, ‘উপজেলার নাম ফটিকছড়ি উত্তর—সুতরাং সদর দপ্তরও উত্তরাঞ্চলে হওয়া উচিত। সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক সুবিধার কথা চিন্তা করে যদি অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করা হয় তাহলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।’
তবে এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল স্থানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে; এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্তিপূর্ণ এবং জরুরি সেবাসমূহ স্বাভাবিকভাবে চলছে।
গত কয়েকদিন আগেই সরকার ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা ঘোষণা করলেও সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় স্থাপন করায় উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা দাবি করছে, সর্বসাধারণের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে সদর দপ্তরকে উত্তরাঞ্চলের একটি কেন্দ্রীয় স্থানে স্থানান্তর করতে হবে।