বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ন

টেকনাফ-উখিয়ায় লাগাতার অপরাধ: চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের রাজপথ দখল, ‘বিশেষ বাহিনী’ গঠনের জোর দাবি

জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৮ Time View
11
​অপহৃত হচ্ছে সাধারণ মানুষ, দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। সীমান্ত ঘেঁষে রমরমা ব্যবসা মানবপাচার ও মাদকের। দীর্ঘদিনের এই অরাজকতা আর নিরাপত্তাহীনতায় অতিষ্ঠ হয়ে এবার চট্টগ্রাম রাজপথে নেমেছেন টেকনাফ ও উখিয়ার বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ বাহিনী গঠনসহ ছয় দফা দাবিতে বন্দরনগরীতে সরব হয়েছেন নানা শ্রেনী-পেশার মানুষ।
​শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন, টেকনাফ-উখিয়া’-এর ব্যানারে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পুরো প্রেস ক্লাব এলাকা একসময় প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে।
​সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টেকনাফ ও উখিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সাধারণ মানুষের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। বিদ্যমান টাস্কফোর্স সীমান্ত এলাকায় শান্তি ফেরাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ মন্তব্য করে আয়োজকরা বলেন, “টেকনাফ-উখিয়ার এই সঙ্কট আর শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”
​পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমাবেশ থেকে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়:
​বিশেষ বাহিনী গঠন: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে নিজস্ব কমান্ড কাঠামো ও পৃথক বাজেটসহ একটি স্থায়ী “বিশেষ বাহিনী” গড়ে তোলা।
​সেনাবাহিনীর টহল: নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র অনুপ্রবেশ রোধে সেনাবাহিনীর টহল বৃদ্ধি ও নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপন।
​জালিয়ার দ্বীপে ঘাটি: নাফ নদীর নিরাপত্তার জন্য কৌশলগত জালিয়ার দ্বীপে কোস্ট গার্ডের স্থায়ী ঘাঁটি (POB) স্থাপন।
​নিরাপত্তা বেষ্টনী কঠোর করা: বাহারছড়া পাহাড়, হোয়াইক্যং ঢালা ও হ্নীলায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার।
​সশস্ত্র গোষ্ঠীর দমন: রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্তে সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে নিয়মিত চিরুনি অভিযান।
​সতর্কবার্তা: দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আরও বড় পরিসরে কঠোর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা।
​আন্দোলনের পক্ষে ছয় দফা দাবি পাঠ করেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী রুবায়েত হোসাইন। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইসাল সাফি আগামী ৫ দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
​স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের এই রাজপথের প্রতিবাদ এখন বার্তা দিচ্ছে—সীমান্তের নিরাপত্তা ও মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সরকারের কার্যকর এবং কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সময় এখনই।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com