জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার ধামরাইয়ে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী আফিকুল ইসলাম সাদ আহত হয়ে ৫ আগস্ট হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট মারা যান। নিহতের নানা আজিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট ওই ঘটনার জন্য ধামরাই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদসহ আওয়ামী লীগের ৮২ নেতাকর্মীর নামে হত্যা মামলা করেন। মামলায় পুলিশ সদস্যদের নাম রাখা হয়নি বলে নিহত পরিবার ও আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদেরও বিচার দাবি করেছেন।
উৎসব–বিক্ষোভের সময় শরীফবাগ থেকে থানার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ভিড়কে লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি চালায়—এমনটি ঘটনার সময় থাকা আফিকুলের বন্ধু সাকিব জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গুলির মধ্যে সাদ কপালে গুলিবিদ্ধ হয়; প্রথমে ইসলামপুর হাসপাতালে নেয়া হয়, পরে সাভার ও এনাম মেডিক্যালে নেওয়ার পর তিন দিন লড়াই করে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনার দিন পুলিশের_behaviour নিয়ে পরিবারের অভিযোগ আছে—প্রাথমিক চিকিৎসার পথে এবং ঘটনার পর পুলিশ আরও হয়রানি ও গাড়িতে গুলি করার কথা বলা হচ্ছে। নিহতের বাবা মো. শফিকুল ইসলামও জানান, ছেলে হার্ডিঞ্জ স্কুল এলাকায় থানা পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় আরও দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে আন্দোলন পক্ষ জানিয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নিহতের পরিবার দাবি করেন, হত্যায় সরাসরি জড়িত যারা তাদেরই নাম মামলাে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, পাশাপাশি ঘটনার নির্দেশদাতাদেরও বিচারের আওতায় আনা হোক। ধামরাই থানার তখনকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি; তিনি ঘটনার পর আত্মগোপনে রয়েছেন বলেই বলা হয়। পুলিশ জানায় তদন্ত চলমান; যদি তদন্তে কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাদের নাম পরবর্তীতে মামলায় যোগ করা হবে। ঢাকা জেলার সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ পর্যন্ত এজাহারে নাম থাকবে ২৫ জনসহ মোট ৯৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।