দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঐতিহাসিক দিন ৫ আগস্টের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দিনটি স্বৈরাচার পতনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তবে দুই বছর পর দাঁড়িয়ে সাফল্যের পাশাপাশি অনেক অপূর্ণতা, চ্যালেঞ্জ এবং জনমতের প্রতিফলনের বিষয়টিও জোরালোভাবে সামনে আসছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারক ও নেতাদের ভাষ্যমতে, এই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য এখন ৩১ দফার মাধ্যমে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশ পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করা। তবে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুসংহত করার পথে এখনো অনেক বাধা রয়ে গেছে, যা দূর করা সময়ের দাবি।
অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা চললেও বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া, রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো সরকারি দপ্তরে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির মতো পুরোনো সমস্যার পুরোপুরি সমাধান না হওয়ায় কিছুটা হতাশা কাজ করছে সচেতন মহলে।