জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি ‘কলঙ্কের নাম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মদ। একই সঙ্গে ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, এই হামলার পেছনে তার কোনো নেতৃত্ব ছিল না; বরং স্থানীয় ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা তাকে প্রতিহত করেছে।
তিনি তিনি বলেন, নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি কলঙ্কের নাম। এই কলঙ্ক দেশের মানুষ আর দেখতে চায় না।
শুক্রবার (২২ মে) ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনার পর সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাহেদ আহম্মদ এসব কথা বলেন।
ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মদ বলেন, তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন এবং পাশের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে দাওয়াত খেতে যাওয়ার কথা ছিল।
নামাজ শেষে তিনি জানতে পারেন, সেখানে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উপস্থিত আছেন।
শাহেদ আহম্মদ অভিযোগ করে বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনের শুরু থেকে আজ অবধি বিএনপি এবং দলের শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস, আসাদুল হাবিব দুলুসহ বিভিন্ন নেতাদের ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘মাফিয়া’ বলে কটূক্তি করে আসছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিভিন্ন নেতাদের হাত ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার প্রসঙ্গে ছাত্রদল নেতা বলেন, তিনি যখন মসজিদ থেকে বের হলেন, তখন সেখানে সাংবাদিক ও পরিচিত অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
আমি তার (নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী) কাছে গিয়ে বলি—আপনি ঝিনাইদহে এসেছেন খুব ভালো, কিন্তু আমাদের স্থানীয় ও শীর্ষ নেতাদের নামে কটূক্তি করবেন না। প্রত্যেকেরই মান-সম্মান আছে। উনি তখন আমার পরিচয় জানতে চান এবং আমি পরিচয় দিই।
শাহেদ আহম্মদের দাবি, তার কথা বলার পর পরই ঝিনাইদহের বিক্ষুব্ধ কিছু ছাত্র-জনতা নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং তাকে ঝিনাইদহ থেকে বিতাড়িত করে। তিনি বলেন, আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে—এই দাবি সম্পূর্ণ অসত্য।
আমি শুধু কথা বলেছি, তার মানে এই নয় যে আমি হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছি।
ছাত্রদল আহ্বায়ক উল্টো এনসিপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ তোলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওর সূত্র দিয়ে তিনি দাবি করেন, এনসিপি নেতাকর্মীদের ট্রাউজারের পকেট থেকে ৯ এমএম বা অন্য কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বের করতে দেখা গেছে। এই অস্ত্রগুলো কারা ব্যবহার করছে, পুলিশ কেন এখনো তাদের গ্রেপ্তার করছে না?
সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে শাহেদ আহম্মদ বলেন, ২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ে সারা দেশে পুলিশের কাছ থেকে যে ভারী অস্ত্রগুলো গায়েব করা হয়েছিল, সেগুলো এখন কোথায় আছে এবং কারা ব্যবহার করছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।