জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি।
ঈদের ছুটি কাটিয়ে প্রিয়জনদের বিদায় জানিয়ে সিএনজি অটোরিকশাযোগে শহরের কর্মস্থলে ফিরছিলেন যুবক বাহাদুর আলম (২৮)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেই ফেরা আর হলো না তার। চট্টগ্রামের বাঁশখালী পিএবি সড়কে দ্রুতগামী একটি মাছবোঝাই পিকআপের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় সিএনজির আরও তিন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (১ জুন) সকাল আনুমানিক সাতটার দিকে বাঁশখালী উপজেলার পিএবি সড়কের মনছুরিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মো. বাহাদুর আলম কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের জাহিদা ঘোনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন—মহেশখালী উপজেলার আবুল বাশরের ছেলে মো. নোমান (৩৫), মোজাম্মেল হকের মেয়ে মনি বেগম (২৪) এবং চকরিয়া উপজেলার বদরখালী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. হেলাল (২৩)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে চকরিয়ার মগনামা ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। অটোরিকশাটি বাঁশখালীর মনছুরিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মাছবোঝাই পিকআপের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হেলাল উল্লাহ নূরী জানান, হাসপাতালে আনার পূর্বেই বাহাদুর আলমের মৃত্যু হয়েছে। বাকি তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার পর দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপ ও সিএনজি অটোরিকশা দুটিকে জব্দ করেছে পুলিশ।”