ফেনীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সদস্য আবদুল মোতালেবকে সরকারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গঠিত জেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলি কমিটি এবং মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন আপিল কমিটিতে তাকে সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারিভাবে নিষিদ্ধ একটি দলের পদধারী নেতা কীভাবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় না এনেই তাকে এই পদে বসানো হয়েছে, যা সরকারকে বিতর্কিত করছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেটিজেনরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে আবদুল মোতালেবের দাবি, এসব কমিটিতে যুক্ত হওয়ার জন্য তিনি কোনো তদবির করেননি এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে তিনি আপিল কমিটিতে থাকার যোগ্য বলে মনে করেন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিনের সুপারিশেই মুক্তিযোদ্ধা আপিল কমিটিতে তাকে যুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মনিরা হক এ বিষয়ে জানান, বিতর্ক যেহেতু তৈরি হয়েছে, সেহেতু প্রয়োজনে তাকে ওইসব কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি কমিটিতে সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় এবং যোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিল।