বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, আত্মনির্ভরশীল, উৎপাদনমুখী, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণভিত্তিক বাংলাদেশের যে স্বপ্ন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেখেছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তার আদর্শ ও উন্নয়ন দর্শন অনুসরণ করেই একটি সমৃদ্ধ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুর-১৩ এলাকার কাফরুলে অবস্থিত জামিয়া আরাবিয়া খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসায় দোয়া মাহফিল এবং এতিমখানা-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষকই নন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন এবং উৎপাদনমুখী জাতি গঠনে তার অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়া দেশের অর্থনীতিকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সীমাবদ্ধতা থেকে বের করে বেসরকারি খাত, কৃষি, শিল্প ও রপ্তানিনির্ভর উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যান। তার প্রণীত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল স্বনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের একটি যুগান্তকারী রূপরেখা।
স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাভিত্তিক নীতি গ্রহণ, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ এবং স্বাস্থ্য জনবল উন্নয়নের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি দৃঢ় ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন। তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের সুফল দেশের মানুষ এখনও ভোগ করছে।
অনুষ্ঠান শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ব্যাংকার্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ জায়েদ আল ফাত্তাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা জজ মো. ফরিদুল আলম, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক কাদের সিদ্দিকী এবং জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহানা চৌধুরী বেবী।
এ সময় যুবদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুল আলম বাদশা, ডা. কায়েস, ডা. রায়হান, ডা. মমী, ডা. সিফাতসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সিনিয়র ব্যাংকার, পেশাজীবী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।