অন্ধকার নামলেই ছিনতাইকারীদের রাজত্ব: চকরিয়া রেলস্টেশন যেন এক আতঙ্কের পথ
Reporter Name
Update Time :
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
৩
Time View
অন্ধকার নামলেই ছিনতাইকারীদের রাজত্ব: চকরিয়া রেলস্টেশন যেন এক আতঙ্কের পথ
দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প হলেও এর সুফল পাওয়া নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়েছেন চকরিয়া রেলস্টেশন ব্যবহারকারী যাত্রীরা। এলাকার ভেতরে তুলনামূলক নিরাপত্তা থাকলেও স্টেশনটির প্রধান প্রবেশপথ ও সংযোগ সড়কগুলো এখন হয়ে উঠেছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার অভাব, নির্জন পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে সন্ধ্যার পর থেকেই সেখানে সক্রিয় হয়ে উঠছে ছিনতাইকারী চক্র। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যার পর এই সংযোগ সড়কগুলোতে চলাচল করা এক প্রকার ‘অগ্নিপরীক্ষা’। যাত্রীদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ব্যাগ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা এখন প্রায় নিত্যদিনের। অনেক সময় সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইক থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে...
4
দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প হলেও এর সুফল পাওয়া নিয়ে চরম শঙ্কায় পড়েছেন চকরিয়া রেলস্টেশন ব্যবহারকারী যাত্রীরা। এলাকার ভেতরে তুলনামূলক নিরাপত্তা থাকলেও স্টেশনটির প্রধান প্রবেশপথ ও সংযোগ সড়কগুলো এখন হয়ে উঠেছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার অভাব, নির্জন পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলের ঘাটতিকে কাজে লাগিয়ে সন্ধ্যার পর থেকেই সেখানে সক্রিয় হয়ে উঠছে ছিনতাইকারী চক্র।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যার পর এই সংযোগ সড়কগুলোতে চলাচল করা এক প্রকার ‘অগ্নিপরীক্ষা’। যাত্রীদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ব্যাগ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা এখন প্রায় নিত্যদিনের। অনেক সময় সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইক থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র তৈরি হয়েছে, যারা নির্বিঘ্নে এই অপরাধ কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে।
রেলওয়ে পুলিশের অনুপস্থিতি, ভরসা শুধু স্থানীয় থানা
চকরিয়া রেলস্টেশনটি চালু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো এখানে কোনো রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়নি। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীরও (আরএনবি) কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই বললেই চলে। ফলে স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুরো দায়ভার এসে পড়েছে স্থানীয় থানা পুলিশের ওপর।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় মাতামুহুরী ফাঁড়ির পুলিশ অনেক সময় রেলস্টেশন সংলগ্ন এই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মূল টহল না দিয়ে অন্যত্র অবস্থান করে ফিরে যায়। ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে সহজেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন,
”মাতামুহুরী ফাঁড়ির পুলিশ রামপুর এলাকায় নিয়মিত টহল দিয়ে থাকে। এছাড়া যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর।”
বিশ্লেষকদের পরামর্শ
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পুরোপুরি পৌঁছে দিতে হলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবিলায় তারা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন:
স্থায়ী জিআরপি ফাঁড়ি: রেলস্টেশনে দ্রুত স্থায়ী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা।
পুরো স্টেশন ও সংযোগ সড়কগুলোকে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা।
অন্ধকারাচ্ছন্ন সংযোগ সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট ও আলোর ব্যবস্থা করা।
জিআরপি, আরএনবি ও স্থানীয় থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ ও নিয়মিত টহল জোরদার করা।
মেগা প্রকল্পের এই আধুনিক রেলসেবা যেন অপরাধীদের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে ভয়ের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেজন্য দ্রুতই দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ ও সাঁড়াশি অভিযান চালানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।