বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
Title :
ইরান চুক্তির নথি দেখতে চেয়েছিল ইসরায়েল, প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিএসএফকে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বিভ্রান্তি ছড়াতেই ফ্যামিলি কার্ডের টাকা নিয়ে প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী হ্যাটট্রিকের পর মেসির স্ত্রী বললেন, ‘তুমি অবিশ্বাস্য’ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এস আলমের বৈশ্বিক সাম্রাজ্যে তদন্ত জোরদার, নজরে এবার মালয়েশিয়ার দুই বিলাসবহুল হোটেল প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে বললেন প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সেই রেফারি বিশ্বকাপে রেফারিরা কত টাকা আয় করেন? ফ্রান্স ও সেনেগালের চূড়ান্ত একাদশে থাকছেন যারা

চট্টগ্রাম আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যা: মূল আসামি রিমন গ্রেফতার, উদ্ধার করা হলো চাকু ও মোবাইল

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬
  • ৫ Time View
8
জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ঘটনার প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু এবং নিহত এনি বড়ুয়ার মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
​পুলিশের একটি যৌথ দল গত রাতে পটিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঋণের স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢোকার সময় চিনে ফেলায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
​যেভাবে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হলো
​হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম মাঠে নামে। আসামি গ্রেফতার এড়াতে একের পর এক স্থান পরিবর্তন করলেও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিমন বড়ুয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে—
​ভিকটিমের বাড়ির পেছনের একটি খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু উদ্ধার করা হয়।
​পটিয়া রেললাইনের পাশের একটি ডোবা থেকে নিহত এনি বড়ুয়ার মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।
​চুরির উদ্দেশ্যেই ঘরে প্রবেশ, চিনে ফেলায় খুন
​পুলিশ জানায়, ভিকটিম পরিবারের কাছে সংরক্ষিত সুজন বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তির ঋণ সংক্রান্ত স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী চাকু নিয়ে বাড়ির পেছনে ওঁৎ পেতে ছিল রিমন। সুযোগ বুঝে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করলে গৃহকর্ত্রী এনি বড়ুয়া তাকে দেখে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি তাকে চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে।
​এনি বড়ুয়ার চিৎকার শুনে মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে রিমন। ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের নির্মম মৃত্যু হয়। আলামত নষ্ট ও তথ্যপ্রমাণ আড়াল করতেই রিমন পালিয়ে যাওয়ার সময় নিহত এনি বড়ুয়ার মোবাইল ফোনটি সাথে করে নিয়ে গিয়েছিল।
​এলাকায় স্বস্তি, তদন্ত এখনো চলমান
​এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুরো চেনামতি এলাকায় শোক ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধান আসামি গ্রেফতার ও রহস্য উদঘাটিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
​চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com