কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু: নিহতের মধ্যে ৭ শিশুই ও নারী
Reporter Name
Update Time :
সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
১
Time View
কক্সবাজারে ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু: নিহতের মধ্যে ৭ শিশুই ও নারী
জাহাঙ্গীর আলম, বিশেষ প্রতিনিধি: কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণের জেরে পৃথক চারটি স্থানে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জন এবং কক্সবাজার জেলা শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় একজনসহ মোট ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। এ সব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত এসব পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী আরও দুই দিন এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। জামতলী ক্যাম্পে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু উখিয়া ফায়ার...
3
জাহাঙ্গীর আলম, বিশেষ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণের জেরে পৃথক চারটি স্থানে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জন এবং কক্সবাজার জেলা শহরের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় একজনসহ মোট ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। এ সব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন।
সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোররাত পর্যন্ত এসব পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী আরও দুই দিন এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
জামতলী ক্যাম্পে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর মাটির নিচে চাপা পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন— মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী শিশু সন্তান মোহাম্মদ আনাস। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পে আরও ৫ প্রাণহানি
রাত পৌনে ২টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ রশিদের ৭ বছর বয়সী ছেলে একরাম মাটিচাপা পড়ে মারা যায়। রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
এর পরপরই রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি বড় ধরনের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। সেখানে মাটিচাপা পড়ে একই সাথে চারজন নিহত হন। নিহতরা হলেন— আব্দুর রাজ্জাকের দুই মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তানজিনা আক্তার (১৩), এবং মোহাম্মদ রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
শহরে মাটিচাপা পড়ে ১ জনের মৃত্যু
এদিকে ভোররাত ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজন মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবর নামের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণদের সরে যাওয়ার নির্দেশ, মাইকিং
টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করায় উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য জোরদার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে দ্রুত প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানান।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই তীব্র বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা আগামী আরও দুই দিন বজায় থাকতে পারে।