চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: (২৭.০৬.২৬)
অরক্ষিত রেলগেট দিয়ে যাওয়ার সময় সুমন ও রাজ নামের দুই যুবক ট্রেনে কাটাপড়ে মারা যায় কিছু দিন আগেই । লোকবল সংকট, অবৈধ রেলগেট, ত্রুটিযুক্ত ব্যারিয়ারসহ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রেলক্রসিং দিয়ে চলাচল করতে হয় । স্থানীয়দের দাবি দুর্ঘটনা ও মৃত্যু কমাতে কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নিতে হবে।
১৮ জুন (২০২৬) বিকালে তিন যুবক মোটরসাইকেল যোগে চুয়াডাঙ্গা থেকে দর্শনা যাচ্ছিল। দর্শনা দুধপাতিলায় অরক্ষিত রেলগেট পার হওয়ার সময় মেইল মহানন্দা ট্রেনে কাটাপড়ে ঘটনাস্থলে দুইজনের মৃত্যু হয়। আহত কাদেরকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইঞ্জিনে জড়িয়ে মরদেহ দুটি ২০০ মিটার দূরে ছিটকে যায়। মোটরসাইকেল ৫০০ মিটার দূরে চলে যায়।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২৭ টি বৈধ ও ৫টি অবৈধ রেলগেট রয়েছে। রেল লাইনের উপর দিয়ে মানব সৃষ্ট প্রায় শতাধিক চলাচলের রাস্তা রয়েছে। বৈধ রেলগেটে তিনজন দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও ১ অথবা ২ জন দায়িত্ব পালন করছেন। চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে দিনে রাতে আন্তঃনগর, মেইল ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে।
চলতি বছরের ছয় মাসে চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে ৮ জন। এ সময় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। জেলায় রেলপথ রয়েছে ৪০ কিলোমিটার। প্রতিদিন বৈধ ও অবৈধ রেলগেট দিয়ে হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে।
১৮৬২ সালে কলকাতা থেকে চুয়াডাঙ্গার উপর দিয়ে রেলপথে প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর থেকেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার সাথে রেল যোগাযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নানা সমস্যার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রাণহানি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। দুধপাতিলা রেলগেটে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবক মারা যায়। যেখানে বৈধ গেটে লোকবল কম। রেলগেট নির্মাণ ও লোকবল দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত ঘটবে। চলাচলকারীদের সচেতন হতে হবে।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। যেখানে গেট ও গেটম্যান নেই সেখানে সর্তকতার সাথে পারাপার হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেই। লোকবল কম থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হবে বলে আশা করছি। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। আট দিন আগে দুধপাতিলা রেলগেটে মহানন্দা ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
তৌহিদ তুহিন
চু্য়াডাঙ্গা