চট্টগ্রামে বিশেষ ব্যবস্থায় রাতে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের দুই পরীক্ষার্থী
Reporter Name
Update Time :
শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
৩৫
Time View
চট্টগ্রামে বিশেষ ব্যবস্থায় রাতে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের দুই পরীক্ষার্থী
ধর্মীয় অনুশাসনকে সম্মান জানিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মের 'সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট' সম্প্রদায়ের দুই শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় রাতে এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন করছে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। শনিবার (৪ জুলাই) সূর্যাস্তের পর রাতে তারা বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেবেন। শুধু চট্টগ্রামেই নয়, একই ধর্মীয় বিধান মেনে বিশেষ এই ব্যবস্থায় চলতি বছর সারাদেশে মোট ১৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসছেন। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাগুলো সময়সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। শিক্ষাবর্ষের সেশনজট এড়াতে ও সময়সূচি ঠিক রাখতে এবার বেশ কয়েকটি পরীক্ষা শনিবারে রাখা হয়েছে। পুরো পরীক্ষা...
44
ধর্মীয় অনুশাসনকে সম্মান জানিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মের ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট’ সম্প্রদায়ের দুই শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় রাতে এইচএসসি পরীক্ষার আয়োজন করছে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। শনিবার (৪ জুলাই) সূর্যাস্তের পর রাতে তারা বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেবেন। শুধু চট্টগ্রামেই নয়, একই ধর্মীয় বিধান মেনে বিশেষ এই ব্যবস্থায় চলতি বছর সারাদেশে মোট ১৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসছেন।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাগুলো সময়সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। শিক্ষাবর্ষের সেশনজট এড়াতে ও সময়সূচি ঠিক রাখতে এবার বেশ কয়েকটি পরীক্ষা শনিবারে রাখা হয়েছে। পুরো পরীক্ষা সূচির মধ্যে আগামী ৪, ১১, ১৮ ও ২৫ জুলাই এবং ১ ও ৮ আগস্ট—এই ছয়টি শনিবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শনিবার সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে তারা পবিত্র ‘সাবাত’ বা বিশ্রামের দিন হিসেবে গণ্য করেন। এই সময়ে তারা লেখালেখিসহ জাগতিক সব ধরণের কাজকর্ম থেকে বিরত থাকেন। শিক্ষার্থীদের এই ধর্মীয় আবেগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ কক্ষ ও ভিন্ন সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
বিশেষ পরীক্ষার নিয়মাবলী:
বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ এই দুই পরীক্ষার্থীকে অন্য সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মতোই সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। তবে তারা মূল পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কেন্দ্রের একটি বিশেষ ও বিচ্ছিন্ন কক্ষে বোর্ডের কড়া নজরদারিতে অবস্থান করবেন। এ সময় তাদের কাছে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো সামগ্রী বা যোগাযোগের মাধ্যম (মোবাইল/ইলেকট্রনিক ডিভাইস) থাকবে না। কক্ষের বাইরে যাওয়া বা কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও থাকবে না। তবে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার সুবিধার্থে তারা সঙ্গে শুকনো খাবার রাখতে পারবেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিতে যাওয়া এই দুই শিক্ষার্থীর একজন চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষার্থী এঞ্জেলি সুয়ারি ত্রিপুরা এবং অন্যজন বান্দরবান জেলার একটি কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
সারাদিন কক্ষে অবস্থানের পর সূর্যাস্ত শেষে সন্ধ্যা থেকে তারা মূল খাতার উত্তরপত্র লেখা শুরু করবেন এবং রাত ১০টায় তাদের পরীক্ষা শেষ হবে। পুরো সময়টিতে একজন পরিদর্শক সার্বক্ষণিক ওই কক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন,
“ধর্মীয় বিধান ও শিক্ষার্থীদের আবেগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই বিশেষ পরীক্ষার সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা সকালে অন্য সবার সঙ্গেই কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন, তবে পৃথক কক্ষে বোর্ডের কঠোর নজরদারিতে থাকবেন। সূর্যাস্তের পর তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি ঠিক রাখতে এবং পরবর্তী সেশনের পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ে আয়োজন করার লক্ষ্যেই এবার নিরুপায় হয়ে শনিবারে পরীক্ষা রাখতে হয়েছে। তবে কোনো পরীক্ষার্থী যেন তার ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা বোর্ড নিশ্চিত করছে।