জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয় সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবুর বাসভবনের অডিটোরিয়ামে।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘জুলাইয়ের লেন্স’ উদ্বোধন করেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু। এই প্রদর্শনী আগামী এক সপ্তাহ ধরে চলবে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ইতিহাসকে ধারণ ও সংরক্ষণ করতে হলে বাস্তব ঘটনার দলিল হিসেবে আলোকচিত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাবলী, আত্মত্যাগ এবং সংগ্রামের ইতিহাস জানতে পারে, সে লক্ষেই এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রদর্শনীতে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, শাসকগোষ্ঠীর ভয়াবহ নির্যাতন, আন্দোলনে প্রতিরোধের চিত্র, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, বিশেষ করে সাভারে নিহত শহীদদের স্মরণে সংরক্ষিত আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে।
প্রদর্শনী ঘুরে দেখে দর্শনার্থীরা আন্দোলনের নানা স্মৃতিচিহ্ন ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন এবং শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য মো. কামরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ প্রদর্শনীতে অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং ইতিহাসভিত্তিক আরও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা জানান, ছবিগুলো শুধু ইতিহাসের দলিল নয়, বরং আন্দোলনের আত্মত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের এক জীবন্ত সাক্ষ্য। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে তরুণ প্রজন্ম দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে শেষে জুলাই আন্দোলনের তোলা ছবি ‘জুলাইয়ের লেন্স’ জমা দেওয়া শ্রেষ্ঠ ১০ জনকে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।