রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন
Title :
বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব বেসরকারি খাতে গেলে সমাধান নাকি নতুন দুর্ভোগ? দেশে ৫০৩টি মিনি স্টেডিয়াম হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: পেট্রোবাংলা সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে, হজের বিমান ভাড়া আরও কমবে: মন্ত্রী কোনো প্রতিভা প্রতিবন্ধকতার কারণে থেমে থাকবে না: আইসিটিমন্ত্রী দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলক খেলাধুলা, মাঠেই হবে ব্যবহারিক মূল্যায়ন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের তারিখ নির্ধারণ চটগ্রাম সিএমপির জাঁকজমকপূর্ণ গ্র্যান্ড মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে ৩৯৭ শিশুর হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দিল ESSD

ফরিদপুরে নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ Time View
14

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকটের চর ইউনিয়নের আকট বাজারসংলগ্ন খালের ওপর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো লোকজন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। সেখানে পাকা সেতু না থাকায় তিন শতাধিক পরিবারের দেড় হাজারের বেশি মানুষ বছরের পর বছর পোহাচ্ছেন দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতুর দাবি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আকট খাল নামে পরিচিত এই খাল পদ্মা নদী থেকে শুরু হয়ে প্রায় আট কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে আড়িয়াল খাঁ নদে মিলেছে। খালটির গড় প্রস্থ ১০০ মিটার। এর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় শিক্ষার্থী ও অন্তঃসত্ত্বারা বেশি বিপাকে পড়েছেন।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, খালের ওপারের এলাকায় প্রায় ২৫ বছর আগে বসতি গড়ে ওঠে। পরে ২০১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে বটতলা আদর্শ গ্রামে ৭৫টি এবং গুচ্ছগ্রামে ১০০টি ভূমিহীন ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। ২০২৪ সালে আরও ৬০টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হলেও সেতু না থাকাসহ নানা ভোগান্তির কারণে সেগুলোর অধিকাংশই এখন পরিত্যক্ত।

আকট খাল নামে পরিচিত এই খাল পদ্মা নদী থেকে শুরু হয়ে প্রায় আট কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে আড়িয়াল খাঁ নদে মিলেছে। খালটির গড় প্রস্থ ১০০ মিটার। এর ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় শিক্ষার্থী ও অন্তঃসত্ত্বারা বেশি বিপাকে পড়েছেন।

গত ১৮ জুলাই সরেজমিন দেখা যায়, খালের ওপর বাঁশের তৈরি একটি জরাজীর্ণ সাঁকোই এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা। ঝুঁকি নিয়েই মানুষ ওই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকার অন্তত তিন শতাধিক পরিবারের দেড় হাজারের বেশি মানুষকে নিয়মিত সদরপুর উপজেলা সদরে যেতে হয়। বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মক্তব বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে সাঁকোটি পার হতে হয়।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা কাকলী আক্তার বলেন, এ এলাকা থেকে অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী আকট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আকটের চর সাগর চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ে পড়তে যায়। বর্ষাকালে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না। বহুবার সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চেয়ারম্যান হওয়ার পর পাঁচ বছর ধরে নিজের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি মেরামত করছেন। বর্তমানে সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় একাধিকবার স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

আসলাম ব্যাপারী, আকটের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদরপুর উপজেলা, ফরিদপুর

আকট বাজার এলাকা থেকে আট কিলোমিটার দূরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বটতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কোহিনূর বেগম বলেন, কেউ অসুস্থ হলে বা কোনো প্রসূতিকে হাসপাতালে নিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
শরৎকালে পদ্মার চরে কাশফুল দেখতে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী আসেন। তখন বাঁশের সাঁকো খুলে দিয়ে খেয়া নৌকায় পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিবার পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার ব্যাপারী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে সেতু না থাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। বিষয়টি বহুবার চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

আকটের চর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আসলাম ব্যাপারী বলেন, চেয়ারম্যান হওয়ার পর পাঁচ বছর ধরে নিজের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকোটি মেরামত করছেন। বর্তমানে সেটিও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় একাধিকবার স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত আকট খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে তিন শতাধিক পরিবারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান করা হোক। সেই সঙ্গে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সদরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ওই স্থানে পাকা সেতুর অভাবে জনজীবনে দুর্ভোগ হচ্ছে, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। দ্রুত ঘটনাস্থল ঘুরে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com