শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন
Title :
মেসিদের কটূক্তি করলে ভিসা বাতিল, কড়া বার্তা আর্জেন্টিনা সরকারের বেতন না পাওয়া ইবোলাবিরোধী কর্মীদের জীবনযুদ্ধের গল্প ম্যাসেঞ্জার চ্যাট বিতর্কে গেল শাবিপ্রবি ছাত্রশক্তি নেতার পদ ঢামেক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন মির্জা আব্বাস হোমিওপ্যাথিক তরল পান করে হবিগঞ্জে স্বামী-স্ত্রীসহ ৫ জনের মৃত্যু নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দল ছাড়লেন এনসিপি নেতা ‘সব ফাঁস’ করে দেওয়ার হুমকি পাটওয়ারীর, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের ‘সেই পুরোনো অভ্যাস! ছাত্রদল আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা দিয়েছে’ শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিচ্ছে না ভারত

হজ উপলক্ষ্যে বার্তা আমাদের যোদ্ধারা ‘মহা শয়তান’-কে আঘাত করেছে: মুজতাবা খামেনি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
  • ৪৮ Time View
64

ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনী খামেনি হজ অনুষ্ঠান উপলক্ষে এক বার্তায় জোর দিয়ে বলেছেন, এ বছর মুশরিকদের থেকে সম্পর্কছেদ বা বিমুখতা (বারাআত) প্রদর্শনের বিষয়টি দ্বিগুণ গুরুত্ব বহন করছে। আমেরিকা ও জায়ানবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এই বারাআতের গভীরতা ও ব্যাপ্তি হজের মৌসুম ও মীকাতে পালিত আনুষ্ঠানিক বারাআতের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। এই বরকতময় দিনগুলোর পর ইরান ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’ এ স্লোগান ইসলামী উম্মাহ ও বিশ্বের মজলুমদের, বিশেষত যুবসমাজের সাধারণ স্লোগানে পরিণত হবে।

ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনী খামেনি হজ উপলক্ষ্যে এক বার্তায় জোর দিয়ে বলেছেন, এ বছর মুশরিকদের থেকে বিমুখতা (বারাআত) প্রদর্শনের বিষয়টি দ্বিগুণ গুরুত্ব বহন করছে। আমেরিকা ও জায়নবাদী ইসরায়েলের শাসনের বিরুদ্ধে এই বারাআতের গভীরতা ও ব্যাপ্তি হজের মৌসুম ও মীকাতে পালিত আনুষ্ঠানিক বারাআতের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। এই বরকতময় দিনগুলোর পর ইরান ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েল ধ্বংস হোক’—এ স্লোগান ইসলামী উম্মাহ ও বিশ্বের মজলুমদের, বিশেষত যুবসমাজের সাধারণ স্লোগানে পরিণত হবে।

ইসলামী বিপ্লবের নেতার ইসলামী উম্মাহর উদ্দেশে প্রেরিত বার্তার পূর্ণপাঠ, যা আজ মঙ্গলবার সকালে আরাফাতের ময়দানে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন নওয়াব যিনি ওয়ালিয়ে ফকিহের প্রতিনিধি ও ইরানি হাজিদের তত্ত্বাবধায়ক পাঠ করেন তা নিম্নরূপ:

‘‘পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্ নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক।’
হে আল্লাহ! আমি তোমার ডাকে সাড়া দিচ্ছি। তোমার কোনো শরিক নেই। সমস্ত প্রশংসা, সমস্ত নিয়ামত এবং সমস্ত রাজত্ব ও ক্ষমতা তোমারই এবং তোমারই জন্য।

এ বছরের হজের মৌসুমও এসে উপস্থিত হয়েছে, এবং ইসলামী উম্মাহর হাজিরা ইবাদতের ইহরাম বেঁধে ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি উচ্চারণ করেছেন, যাতে তারা বস্তুবাদী ও সাধারণ জীবন থেকে আল্লাহমুখী ও সৌভাগ্যময় জীবনের দিকে হিজরত করতে পারেন; এমন এক তাওহিদভিত্তিক জীবন, যার কেন্দ্রবিন্দু মহান আল্লাহর ইবাদত, এবং আল্লাহর সাথে শরিক স্থাপনকারীদের প্রত্যাখ্যান, অস্বীকার ও তাদের থেকে বিমুখতা। তবে এই হিজরতের সুযোগ কেবল এ বছরের বায়তুল্লাহর যাত্রী ও হাজিদের জন্য নয়; বরং ইরান ও সমগ্র বিশ্বের সব মুসলিম ভাই-বোনের জন্যও প্রযোজ্য, তাদের জন্যও যারা জীবনের পূর্ববর্তী বছরগুলোতে হজ পালন করেছেন, এবং তাদের জন্যও যারা এখনও হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেননি।

এই হিজরতের শর্ত হলো আল্লাহর স্মরণকে কেন্দ্র করে স্থায়ী ইহরাম ধারণ করা; সত্যের অক্ষকে কেন্দ্র করে অবিরাম তাওয়াফ করা; আল্লাহপ্রদত্ত গুরুদায়িত্বসমূহের বিপদসংকুল শিখরসমূহের মাঝে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালানো; প্রতারক শয়তান ও তার সব অনুসারীকে সর্বদা পাথর নিক্ষেপ করা; মনোযোগ ও বিনয়ের সাথে অবস্থান করা; অচল দরিদ্র ও পথচারীকে আহার করানো; প্রবৃত্তি ও বিপথগামী আকাঙ্ক্ষাগুলোকে কোরবানি করা এবং অন্তরের অপবিত্রতা দূর করা; আর সব অবস্থায় সেবার জন্য প্রস্তুত থাকা ও সত্যের পক্ষে প্রতিরক্ষার পতাকা উড্ডীন রাখা।
এভাবেই ইরানের জাতি ইসলামী বিপ্লবের মীকাতে এই হিজরতের পথেই পদার্পণ করেছিল; মহান খোমেইনীর ইবরাহিমী আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল; আধিপত্য মেনে নেওয়ার পোশাক খুলে ফেলেছিল; পার্থিব ও পরকালীন সৌভাগ্যের ইহরাম পরিধান করেছিল এবং ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি দিতে দিতে ও দ্রুত পদক্ষেপে চলতে চলতে চেষ্টা করেছিল যেন খাঁটি মুহাম্মদী ইসলামের জ্ঞানের অক্ষকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ করতে পারে এবং বিশ্বময় ন্যায়বিচার ও মহান বেলায়াত (আল্লাহ-প্রদত্ত নেতৃত্ব ) এর আলোকচ্ছটার নিকটবর্তী হতে পারে।

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ, আল্লাহু আকবার ‘আলা মা হাদানা। হ্যাঁ, আল্লাহু আকবার। আর এই ‘আল্লাহু আকবার’-এর অস্ত্র দিয়েই ইরানের মুসলিম জাতি ৪৭ বছর আগে বিপ্লব করেছিল; তাগুতি, স্বৈরাচারী ও পরনির্ভর পাহলভী শাসন উৎখাত করেছিল; লোভী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আমেরিকার হাত-পা এ দেশ থেকে কেটে দিয়েছিল এবং জায়নবাদের প্রভাব সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করেছিল।
এই ‘আল্লাহু আকবার’-এর অস্ত্র দিয়েই সাদ্দামের বাথ শাসনের ইরানের মাটিতে আগ্রাসনের পর বীর মুজাহিদ ও আত্মত্যাগী যুবকেরা আট বছরের পবিত্র প্রতিরক্ষার মহাকাব্য রচনা করেছিল। পূর্ব ও পশ্চিমের সব শক্তি বাথ শাসনকে সমর্থন করা সত্ত্বেও তারা তাকে তার জায়গায় বসিয়ে দিয়েছিল এবং পরবর্তী বহু বছর ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ, অভ্যুত্থান, অবৈধ নিষেধাজ্ঞা এবং অসংখ্য রাজনৈতিক, প্রচারমূলক ও অর্থনৈতিক হামলার মুখেও দৃঢ় ও অবিচলভাবে এই প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছিল।

আল্লাহু আকবার। এই ‘আল্লাহু আকবার’-এর অস্ত্রই ইসলামী উম্মাহ ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের মুজাহিদ যুবকদের বন্ধনের সুতোকে ইরান থেকে লেবানন, ফিলিস্তিন, ইরাক ও সিরিয়া পর্যন্ত; আফ্রিকা ও ইয়েমেন থেকে আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং বিশ্বের সব স্বাধীন জাতির মধ্যে দৃঢ় করেছে যাতে এই মজবুত বন্ধন জায়নবাদী দখলদার আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে ইসলামী উম্মাহর সত্তা রক্ষায় দাঁড়াতে পারে, দায়েশকে ধ্বংস করতে পারে, ‘তুফানুল আকসা’ শুরু করতে পারে এবং টলায়মান জায়নবাদী শাসনের নিঃশ্বাস বন্ধ করে দিতে পারে।

আল্লাহু আকবার। হ্যাঁ, মহান আল্লাহ সব বর্ণনার ঊর্ধ্বে। এই ‘আল্লাহু আকবার’-এর অস্ত্রের ওপর নির্ভর করেই ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ১৪০৪ সালের খোরদাদ মাসে সংঘটিত দ্বিতীয় আরোপিত যুদ্ধে জায়নবাদী শাসনকে ভয়াবহ আঘাতে বিপর্যস্ত করতে সক্ষম হয়েছে, আগ্রাসী আমেরিকাকে কঠিন চপেটাঘাত করেছে এবং ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার শত্রুর উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দিয়েছে।

আর ‘আল্লাহু আকবার-এর এই অস্ত্র ইরানের জাতিকে এমন শক্তি ও ক্ষমতা দান করেছে যে, মহান মর্যাদাসম্পন্ন নেতা, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের প্রকৃত উত্তরসূরি, হযরত আয়াতুল্লাহিল উযমা সাইয়্যেদ আলী হোসেইনী খামেনি (আল্লাহ তাঁর মর্যাদা সমুন্নত করুন)-এর হৃদয়বিদারক শাহাদাতের ঘটনার পরও, আজকের বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধীদের হাতে তিনি যেন নতুন এক ঐশী জাগরণ লাভ করেন, এবং জাতি প্রত্যেক প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সর্বাত্মক উপস্থিতির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি নিজেদের গৌরবোজ্জ্বল কর্মকাণ্ডের দিকে আকৃষ্ট করে।

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সব বর্ণনার ঊর্ধ্বে। এই ‘আল্লাহু আকবার’-এর অস্ত্র দিয়েই ইসলামী ইরানের বীর যোদ্ধা ও আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষত প্রিয় লেবাননের প্রতিরোধযোদ্ধাদের সহযোগিতায়, তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধে আমেরিকান-জায়নবাদী সন্ত্রাসী ও দাঁত-নখ পর্যন্ত সশস্ত্র দুই বাহিনীর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য বিজয় অর্জন করেছে। মহান প্রতিপালকের ওপর ভরসা করে এবং নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে ‘মহাশয়তান’ আমেরিকা এবং তার অনুগত পোষ্য জায়নবাদী শাসনকে আঘাত করেছে এবং আল্লাহর পথে মুজাহিদদের সাহায্যের ব্যাপারে আল্লাহর সত্য প্রতিশ্রুতি নিজেদের চোখে প্রত্যক্ষ করেছে।

আরও একবার—আল্লাহু আকবার। নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ সব বর্ণনার ঊর্ধ্বে, এবং তাঁর সৈন্যবাহিনী সব শক্তির ওপর বিজয়ী। আর এই ‘আল্লাহু আকবার’-এর অস্ত্র দিয়েই ইরানের জাতি ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের জাগরণের পর ইসলামী উম্মাহর জাগরণ সংঘটিত হবে এবং মুশরিকদের থেকে বিমুখতা হজের জামারাতে পাথর নিক্ষেপের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়বে। ইসলামী উম্মাহ ও এ অঞ্চলের জাতিগুলোর বহু যৌথ সামর্থ্য ও স্বার্থ রয়েছে, যা অঞ্চল ও বিশ্বের ভবিষ্যৎ বিন্যাস ও নতুন ব্যবস্থাকে রূপ দেবে।

আমি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সব ইসলামী দেশ ও সরকারকে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও সৎকর্মে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে তারা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ইসলামী উম্মাহর অগ্রগতি ও ইসলামী বিশ্বের সমস্যাগুলোর সমাধানের পথে এগিয়ে আসে।

এ বিষয়ে যা নিশ্চিত, তা হলো সময়ের কাঁটা আর পেছনে ফিরবে না এবং এ অঞ্চলের জাতি ও ভূখণ্ড আর আমেরিকান ঘাঁটির ঢাল হয়ে থাকবে না। আমেরিকা শুধু এ অঞ্চলে শয়তানি ও সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য নিরাপদ স্থান হারিয়েই ফেলবে না, বরং দিনদিন তার আগের অবস্থান থেকে আরও দূরে সরে যাবে। আর টলায়মান জায়নবাদী শাসন, এই ক্যান্সারসদৃশ গ্রন্থিও তার অভিশপ্ত জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং মহান শহীদ নেতার দশ বছর আগের দৃঢ় ও দূরদর্শী ঘোষণার আলোকে ইনশাআল্লাহ সে ওই ঘোষণার ২৫ বছর পর আর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

এই কারণেই এ বছর মুশরিকদের থেকে বিমুখতা প্রদর্শনের বিষয়টি দ্বিগুণ গুরুত্ব বহন করছে এবং আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের বিরুদ্ধে এই বারাআতের গভীরতা ও ব্যাপ্তি হজের মৌসুম ও মীকাতে পালিত আনুষ্ঠানিক বারাআতের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। এই বরকতময় দিনগুলোর পর ইরান ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইসরায়েলের ধ্বংস হোক’ এ স্লোগান ইসলামী উম্মাহ ও বিশ্বের মজলুমদের, বিশেষত যুবসমাজের, সাধারণ স্লোগানে পরিণত হবে।

ভবিষ্যৎ ইসলামী উম্মাহ ও আধুনিক ইসলামী সভ্যতার। আর আমাদের প্রত্যেকেই নিজের চেষ্টা, সামর্থ্য ও দায়িত্বের পরিমাণ অনুযায়ী এই ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন এবং তাকে নিকটবর্তী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারি। এ বছরের হজে অংশগ্রহণকারী ইরানি হাজিরা তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধে বিজয়ের কাহিনী অন্য মুসলিম ভাই-বোনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

আমি সব সম্মানিত হাজিকে অনুরোধ করছি যেন তারা মানবজাতির মুক্তিদাতার আবির্ভাব ত্বরান্বিত হওয়ার জন্য দোয়ায় মনোযোগী হন এবং ইসলামী উম্মাহর ঐক্য, ফিলিস্তিন ও মসজিদুল আকসার মুক্তি, মুসলমানদের বড় বড় সমস্যার নিরসন এবং বিশ্বব্যাপী ঔদ্ধত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য দোয়া করেন। আমাকেও যেন তারা তাদের দোয়ায় স্মরণ করেন।

হে আমাদের প্রতিপালক! মুহাম্মাদ ও মুহামাদের বংশধরদের ওপর দরুদ প্রেরণ করুন এবং আপনার অনুগ্রহ ও দয়া হাজি ও সমগ্র ইসলামী উম্মাহর ওপর বর্ষিত করুন। তাদেরকে কবুল হজের তাওফিক দান করুন, তাদের হৃদয়কে মারেফাত ও প্রজ্ঞার আলোয় আলোকিত করুন এবং উম্মাহর অবস্থার সংস্কার ও ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য তাদের সংকল্প ও ইচ্ছাশক্তিকে আরও দৃঢ় করুন।
হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার ব্যাপক অনুগ্রহ ও রহমত আল্লাহর পথে শহীদদের পবিত্র আত্মার ওপর, বিশেষত প্রতিরোধ ফ্রন্টের শহীদদের ওপর বর্ষণ করুন এবং তাদের শীর্ষে অবস্থানকারী মহান শহীদ নেতার ওপরও। হাজিদের হজ, ইবাদতকারীদের ইবাদত এবং সেই সকল পরিশ্রমী মানুষের প্রচেষ্টার বিপুল সওয়াব, যারা উম্মাহর নেতার দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তার পবিত্র আত্মার কাছে পৌঁছে দিন এবং ইরানের জাতি ও ইসলামী উম্মাহকে তাঁর পথ ও লক্ষ্য অব্যাহত রাখতে সাহায্য করুন।

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নেতা ও অভিভাবক প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী (আ.) এবং তাঁর পবিত্র পূর্বপুরুষদের ওপর আপনার সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম নাজিল করুন এবং আমাদের সবাইকে ও ইসলামী উম্মাহকে তাঁর পবিত্র ও কবুল দোয়ার অন্তর্ভুক্ত করুন। তাঁর শুভ আগমনে বিশ্বজগতকে আলোকিত ও সুশোভিত করুন। যেমন আপনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আমাদের হৃদয় সেই অবশ্যম্ভাবী প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে পূর্ণ আস্থায় পরিপূর্ণ।
‘আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন; এবং তিনি তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন; আর তাদের ভয়ের পর তিনি অবশ্যই তাদেরকে নিরাপত্তা দান করবেন।’ সমস্ত মুসলিম ভাইদের প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।’’

সূত্র: ফার্স নিউজ এজেন্সি

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com