বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
Title :
নিজ বাসায় কারামুক্ত আইভী, সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত অপরাধী কোন ছাড়া পাবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কুয়েত ও বাহরাইনে আমাদের হামলা আত্মরক্ষামূলক: আরাগচি লেবাননের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফ্রান্সের গভীর আগ্রহের কারণ কী রামগতিতে হেফজখানার নির্মাণ কাজে বাধা, দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭ এমপিওভুক্তির দাবিতে রোববার থেকে আমরণ অনশনে যাচ্ছেন এবতেদায়ী শিক্ষকরা কারামুক্ত আইভী লড়বেন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পদত্যাগের ৩ দিন পর মুখ খুললেন দীপেন দেওয়ান, পাহাড়ে সম্প্রীতি বজায়ের আহ্বান ইসলামী ব্যাংক নিয়ে টানাটানির সুযোগ দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির এখনও বেঁচে আছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি!

মামদানির একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশ জারি

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০৪ Time View
134

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও ধনী শহর নিউইয়র্কের নতুন মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। ২০২৬ সালের প্রথম দিনেই ঐতিহাসিক এবং ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি শহরের আবাসন সংকট মোকাবিলায় এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন।

আজ ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) আল জাজিরা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মামদানি তার অভিষেক ভাষণেই ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ‘আমরা আর দেরি করব না’—এই ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার প্রশাসন প্রগতিশীল পরিবর্তনের পথে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে।

শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল নববর্ষের প্রথম প্রহরে নিউইয়র্ক সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনের একটি ঐতিহাসিক ট্রানজিট হাবে, যা ১৯৪৫ সাল থেকে বন্ধ ছিল। সেখানে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিয়া জেমস তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এরপর দিনের বেলা সিটি হলের সিঁড়িতে এক বিশাল গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মানুষ এই উদযাপনে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে ভার্মন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উপস্থিত ছিলেন। স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে বলেন যে, ‘শ্রমজীবী মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে অসাধ্য সাধন সম্ভব’ এবং মামদানিকে শপথ পাঠ করানোর সময় জনতা ‘ধনীদের ওপর কর আরোপ কর’ স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলে।

মামদানির নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রধান স্তম্ভ ছিল কর সংস্কার এবং আবাসন সুরক্ষা। তিনি নিউইয়র্কের কর্পোরেট কর ৭.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন এবং বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয়কারীদের ওপর কর বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপটি এসেছে শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। ব্রুকলিনের একটি ভবনে দাঁড়িয়ে তিনি আবাসন সংক্রান্ত তিনটি নির্বাহী আদেশ ঘোষণা করেন।

এর মধ্যে রয়েছে শহরের মালিকানাধীন জমি আবাসনের জন্য চিহ্নিত করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের উদ্যোগ। ডেপুটি মেয়র লেইলা বোর্জর্গ আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, আবাসন সংকটই নিউইয়র্কের মূল সমস্যা এবং তারা খারাপ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।

এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি কেবল রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল শহরের বৈচিত্র্যের প্রতিফলন। ইংরেজি, স্প্যানিশ, হিব্রু ও গ্রিক ভাষায় বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি সেখানে ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতি এক ঐক্যের বার্তা দিয়েছে। মামদানি তার ভাষণে বলেন যে, তার এই আন্দোলন এসেছে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সি গ্যারেজ, আমাজন গুদাম এবং রাজপথের আড্ডা থেকে।

ডেমোক্রেটিক কৌশলবিদ নোমিকি কনস্টের মতে, এই বিশাল ব্লক পার্টি বা গণশপথ ছিল সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষমতার বদ্ধ দুয়ার খুলে দেওয়ার একটি প্রতীক। মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তার প্রশাসন ব্যক্তিগত স্বার্থের বদলে সমষ্টিগত উষ্ণতা দিয়ে শহর পরিচালনা করবে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিউইয়র্ককে আরও বাসযোগ্য করে তুলবে। সূত্র: আল জাজিরা

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com