নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ মাইন উদ্দিন :
ভাষা, সংস্কৃতি ও হাজার মাইল দূরত্বের বাধা পেরিয়ে ভালোবাসার টানে সুদূর চীন থেকে হাওরপল্লিতে ছুটে এসেছেন এক চীনা পুলিশ কর্মকর্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ পাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার চৌগাংগা ইউনিয়নের কিষ্টপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায়। চীনা ওই নাগরিকের নাম গাও ওয়েইয়ান। তিনি চীনের হেনান প্রদেশের শিনশিয়াং শহরের মুয়ে জেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম গাও ঝানশিন। জানা গেছে, নিজ দেশে তিনি সহকারী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
অন্যদিকে, কিষ্টপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ নজরুল ইসলাম ও পাখি আক্তার দম্পতির মেয়ে ঝুমা আক্তার স্থানীয় কিষ্টপুর আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে দাখিল পাস করেন। বর্তমানে তিনি চৌগাংগা পুরান বাজার কামিল মাদ্রাসার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। জন্মসনদ অনুযায়ী তাঁর জন্ম ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট। সে হিসেবে বর্তমানে তাঁর বয়স ১৮ বছর ৯ মাস।
জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে একটি চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে গাও ওয়েইয়ান ও ঝুমা আক্তারের পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয় গভীর সম্পর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে তারা একসঙ্গে জীবন গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৬ মে রাতে বাংলাদেশে আসেন গাও ওয়েইয়ান। পরে তিনি সরাসরি চলে যান প্রেমিকার বাড়ি কিষ্টপুর গ্রামে।
ভিনদেশি অতিথির আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। রোববার সকাল থেকেই শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় করেন। কৌতূহলী স্থানীয়রা এক নজর দেখতে ছুটে যান চীনা ওই তরুণকে দেখতে।
নতুন পরিবেশ ও মানুষের ভিড়ের মধ্যেও গাও ওয়েইয়ানকে বেশ স্বাভাবিক ও হাস্যোজ্জ্বল দেখা গেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করে তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। কেউ কেউ তরুণীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও অধিকাংশ মানুষ এই সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শরীফুল ইসলাম স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ভালোবাসার টানে এত দূর দেশ থেকে একজন মানুষ এখানে এসেছে, এটি সত্যিই ব্যতিক্রমী ঘটনা। আমরা চাই, সব ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিয়ে হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা না থাকে।
অন্যদিকে হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামে চীনা নাগরিকের আগমনের বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরেও এসেছে। এ বিষয়ে ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেয়েছি। তরুণী প্রাপ্তবয়স্ক। আইনগতভাবে যেসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেসব বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।