দেশের জ্বালানি খাতের আমদানিকৃত পরিশোধিত তেল বিপণন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বেসরকারি হাতে ছেড়ে দিলে জাতীয় অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন সতর্কবার্তা উঠে এসেছে। কমিটির মতে, জ্বালানির মতো কৌশলগত পণ্য সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকাই জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশি নিরাপদ।
প্রতিবেদনে বেসরকারি খাতে জ্বালানি যাওয়ার ঝুঁকি হিসেবে কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি, মুনাফালোভী সিন্ডিকেট এবং সরবরাহ লাইনে বিশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে কমিটি জানিয়েছে, জ্বালানি খাত পুরোপুরি বেসরকারি বা মুক্তবাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার ফলে সেসব দেশে মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি ঘাটতি ও চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া, বিপিসির নিজস্ব তেল কোম্পানিগুলোর অস্তিত্ব সংকটে পড়া এবং সরকারি রাজস্ব কমার মতো অর্থনৈতিক ঝুঁকির কথাও এতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
কমিটি সুপারিশ করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি আমদানিকারকদের অনুমতি দেওয়ার চেয়ে বরং ইস্টার্ন রিফাইনারির মতো সরকারি প্রকল্পের সক্ষমতা বাড়ানোই বেশি যুক্তিসঙ্গত। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, জরুরি সময়ে ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সক্ষমতা শুধুমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানেরই রয়েছে। তাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই স্পর্শকাতর খাতের একক নিয়ন্ত্রণ সরকারের কাছেই থাকা প্রয়োজন।