নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রীদের অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণ: ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর পৌর এলাকার খড়কমারা গ্রামের মো. হালিম মিয়ার ছেলে শ্রাবণ ওরফে গালিব (১৮) ও তার চাচাতো ভাই জুনাইদ (১২) সিএনজিযোগে ভৈরব থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে একদল সশস্ত্র ডাকাত সিএনজিটির গতিরোধ করে। এসময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয় ডাকাতরা।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই তারা নিকটস্থ টহল পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে পুলিশ সদস্যরা সহায়তার পরিবর্তে উল্টো ভুক্তভোগীদের বলেন, ‘ডাকাতদের সাথে মারামারি করে টাকা ও মালামাল উদ্ধার করে আনতে।’ পুলিশের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিতর্কিত মন্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আতঙ্কিত দুই কিশোরকে বাড়িতে পৌঁছাতে সহযোগিতা করেন।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা: এলাকাবাসীর দাবি, ওই সড়কে সন্ধ্যার পর প্রায়ই ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পুলিশি ঝামেলার ভয়ে অনেকেই থানায় অভিযোগ করতে চান না। ওই এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশের বক্তব্য: এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নূরুন্নবী জানান, সংবাদ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে টহল পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীদের সাথে পুলিশের অসদাচরণের অভিযোগ এবং ডাকাতির ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।