শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
Title :
বেতন না পাওয়া ইবোলাবিরোধী কর্মীদের জীবনযুদ্ধের গল্প ম্যাসেঞ্জার চ্যাট বিতর্কে গেল শাবিপ্রবি ছাত্রশক্তি নেতার পদ ঢামেক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন মির্জা আব্বাস হোমিওপ্যাথিক তরল পান করে হবিগঞ্জে স্বামী-স্ত্রীসহ ৫ জনের মৃত্যু নাসীরুদ্দীন-সারজিসসহ এনসিপির ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দল ছাড়লেন এনসিপি নেতা ‘সব ফাঁস’ করে দেওয়ার হুমকি পাটওয়ারীর, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের ‘সেই পুরোনো অভ্যাস! ছাত্রদল আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা দিয়েছে’ শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দিচ্ছে না ভারত এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা নিয়ে সাবেক শিবির সভাপতির মন্তব্যে পাল্টাপাল্টি বিতর্ক

কাশিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়: স্মৃতি, ঐতিহ্য ও আলোকিত ভবিষ্যতের এক পাঠশালা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
  • ৭১ Time View
87

মোঃ মাইন উদ্দিন :

পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে, সবুজ গাছপালার ছায়ায় ঘেরা শান্ত ও মনোরম পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে কাশিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে এই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার ফাঁকে বিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকে কথা হয় বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মোঃ মুনজিলুর রহমান এর সঙ্গে।
তার কাছ থেকে জানা গেল, নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বিন্নাবাইদ ইউনিয়নের একজন শিক্ষানুরাগী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব সিরাজুল হক মাস্টারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কাশিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের নামফলকেও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর নাম অম্লান হয়ে আছে। তবে শুধু একজন মানুষের উদ্যোগে নয়, বিদ্যালয়টিকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে কাশিম নগর এলাকার অসংখ্য মানুষের ত্যাগ, শ্রম ও আর্থিক সহযোগিতা জড়িয়ে আছে।

সময়ের স্রোতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত অনেকেই আজ আর বেঁচে নেই। অনেকের নামও হয়তো নতুন প্রজন্মের কাছে অজানা। কিন্তু তাঁদের স্বপ্ন, শ্রম আর দূরদর্শিতার ফলেই শিক্ষা বিস্তারের এই প্রতিষ্ঠানটি আজ একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন শিক্ষক কর্মচারীসহ মোট ২৬ জন। শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়টি স্থানীয় সমাজের সাংস্কৃতিক ও মানবিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বন্ধুদের কাছ থেকে জানা গেল, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বিসিএস ক্যাডার হয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করছেন। কেউ হয়েছেন জনপ্রতিনিধি, কেউ বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের সাফল্য আজ বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসের অংশ।

অবকাঠামোগত দিক থেকেও বিদ্যালয়টি সমৃদ্ধ। ছোট-বড় মিলিয়ে এখানে রয়েছে সাতটি ভবন। পাশাপাশি রয়েছে ২০০৬ সালে নির্মিত একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ আশ্রয়কেন্দ্র। যা দুর্যোগের সময় স্থানীয় মানুষের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিদ্যালয়ের সুবিশাল ও নান্দনিক খেলার মাঠটি যে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খোলা আকাশ আর সবুজের সমারোহ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ শিক্ষাঙ্গনের আবহ তৈরি করেছে।

একটি বিদ্যালয় কেবল পাঠদানের স্থান নয়- এটি একটি জনপদের স্বপ্ন, ইতিহাস ও ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। কাশিম নগর উচ্চ বিদ্যালয়ও তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান, যা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা বিস্তারের আলো ছড়িয়ে এলাকার হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন গঠনে অবদান রেখে চলেছে। প্রতিষ্ঠাতাসহ যাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগে বিদ্যালয়টি গড়ে উঠেছে, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো এবং তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এই শান্ত শিক্ষাঙ্গন ভবিষ্যতেও জ্ঞান, মানবিকতা ও আলোকিত মানুষ গড়ার কেন্দ্র হিসেবে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে- এমন প্রত্যাশাই সবার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com