শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন
Title :
১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক, ৫ আগস্ট সমাবেশ হবিগঞ্জ ও সিলেটে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির মশাল মিছিল আমরা গোলাপগঞ্জে যাবো, দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের: নাহিদ ইসলাম রাজধানীর ইমারত বিধিমালা পর্যালোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি বাংলাদেশকে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ধন্যবাদ, শিগগির ঢাকা সফরের আগ্রহ নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নে মোবাইল অপারেটরদের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কলেজে চালু হচ্ছে ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব ঝালকাঠিতে বাস-সিএনজি সংঘর্ষ : মাদরাসাশিক্ষকসহ নিহত ২ প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে রাতের নগর ব্যবস্থাপনা যাচাই করলেন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ করার পরও কেন লড়াইয়ে ফিরল ইরান

বিয়ের অনুষ্ঠানে গান বাজানোয় সালিস ডেকে কনের বাবা-মা, ভাইকে বেত্রাঘাত করল যুবদল নেতা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১০১ Time View
135

নিউজ ডেস্ক:
বিয়ের অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের পর ডাকা হয়েছিল সালিস। স্থানীয় যুবদলের এক নেতা এ সালিস ডাকেন। পরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও এতে অংশ নেন। সে সালিসেই কনের বাবা, মা ও ভাইকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ওই সালিসে কনের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।

গত ২০ অক্টোবর নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। তবে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় কনের ভগ্নিপতির অটোরিকশা আটক করা হয়। অটোরিকশাটি আটকে রাখার সূত্রে আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। যদিও স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর মধ্যস্থতায় অটোরিকশা আবার ফেরত দেওয়া হয়।
কনের পরিবারের অভিযোগ, ২০ অক্টোবর ওই বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সে অনুষ্ঠানের আগের রাতে সাউন্ড বক্সে গান বাজায় তারা। ওই দিন রাতেই স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আফছার উদ্দিন কেন গান বাজানো হয়েছে, সে কৈফিয়ত চান। এ নিয়ে কনের ভাইয়ের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। এ ঘটনার পরের দিন রাতে কনের বাড়িতেই সালিস বসে। সালিসে গান বাজানোর কারণে কনের মা, বাবা ও ভাইকে ১০ ঘা বেত্রাঘাত করা হয়।

জানতে চাইলে কনের ভাই বলেন, তাঁরা রাত ১০টা পর্যন্ত গান বাজিয়েছিলেন। কথা–কাটাকাটির পরের দিন রাত ৯টার দিকে আফছার তাঁর দলীয় লোকজন নিয়ে এসে তাঁদের বিরুদ্ধে সালিস বৈঠক বসান। সে বৈঠকে তাঁদের বিরুদ্ধে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোর পাশপাশি ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়। টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ সত্য নয়। এ অভিযোগে তাঁদের প্রকাশ্যে ১০ ঘা বেত্রাঘাত করা হয়।

তবে কনের ভাইয়ের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন যুবদল নেতা আফছার উদ্দিন। তিনি দাবি করেন, তিনি জেলা শহরের সোনাপুর থেকে জেলেদের মাছ বিক্রির টাকা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। তখন বাড়ির সামনে কনের ভাইকে দাঁড়ানো দেখে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোর বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে কনের পরিবারের লোকজন তাঁর ওপর হামলা করেন। এ সময় তাঁর ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে যায়।

তবে সালিসের কথা স্বীকার করেন আফছার উদ্দিন। তিনি বলেন, বিষয়টি দলীয় লোকজন জানার পর রাতে সালিস হয়। ওই সালিসে বেত্রাঘাতের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তছলিম উদ্দিন ও স্থানীয় বাসিন্দা আলা উদ্দিন মাঝি এ সালিস পরিচালনা করেন। মো. তছলিম উদ্দিনই বেত্রাঘাত করেছেন বলে কনের পরিবারের অভিযোগ। জানতে চেয়ে তছলিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। পরে আলা উদ্দিন মাঝি সালিসের জরিমানার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে বেত্রাঘাত করা হয়নি বলে দাবি করেন।

জানতে চাইলে আলা উদ্দিন বলেন, বিয়েবাড়িতে গান বাজানোর ঘটনায় স্থানীয় এক রিকশাচালক প্রতিবাদ করেছিলেন। পরে কনের বাড়ির লোকজন ওই রিকশাচালক ও আফছারের ওপর হামলা করেছেন। এ নিয়ে সালিস হয়েছিল। এতে বিয়েবাড়ির লোকজনের কারণে আফছারের ৫০ হাজার টাকা হারানোর কারণে তাঁদের ওই টাকা জরিমানা করা হয়।

জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আজমল হুদা বলেন, বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে পরিবারের কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com