বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
Title :
‘আমরা ইরানে টাকা দিচ্ছি না, তবে অন্যরা চাইলে বিনিয়োগ করতে পারে’ প্রবাসীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা দিল কাতার, না মানলেই বিপদ পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস গহীন অরণ্যে স্বস্তির আলো: ফ্যামিলি কার্ডে হাসছে বদনীভাঙ্গার নারীরা ‘পঞ্চগড়ে ক্যান্টনমেন্ট চাই’, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারজিসের দাবি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না ইরান, পাবে বিপুল বিনিয়োগ যারা বলছে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে এলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার ১৪ দফা প্রথমার্ধ শেষে পর্তুগালের বিপক্ষে সমতায় ডিআর কঙ্গো ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধ/র্ষণ, সংসদে বিতর্ক

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না ইরান, পাবে বিপুল বিনিয়োগ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ১৪ Time View
18

ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এমনকি তাদের পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও আলোচনায় বসবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে। দেশটির অর্থনীতিতে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে রয়েছে শর্তগুলো। এখনও দুই দেশ এতে স্বাক্ষর করেনি। তবে কয়েক মাস ধরে চলে আসা রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এই সমঝোতা ঘিরে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে জানিয়েছেন, কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। যদি তাঁর সমঝোতার শর্ত পছন্দ না হয়, তাহলে আবারও ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘না, এটি চূড়ান্ত নয়। এটি সমঝোতা স্মারক। আমার যদি এটি পছন্দ না হয়, তাহলে আবারও আমরা তাদের লক্ষ্য করে গোলাগুলিতে ফেরত যাব। তাদের মাথার ওপর বোমা ফেলব।’

জি৭ সম্মেলনস্থলে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিনিয়োগের বিষয়টিও ক্ষুব্ধভাবে অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ১০ পয়সাও দিচ্ছে না। তবে তিনি বিষয়টির অস্তিত্ব অস্বীকার করেননি বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। তিনি আভাস দিয়েছেন, হয়তো উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো শর্ত সাপেক্ষে ইরানের ভালো আচরণের ভিত্তিতে এটি করতে পারে।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সমঝোতার কাঠামো ‘বেশ শক্তিশালী’। তিনি বলেন, ‘কেউ জানে না এটি কী, তবে অনেক দৃঢ়।’ তিনি আরও জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ১৪টি শর্ত প্রকাশ করেছে। সেগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে যাওয়ার বিষয়টি রয়েছে। সমঝোতায় স্বাক্ষরের পর তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে শর্তে।

এতে বলা হয়েছে, সমঝোতায় স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল আগের সক্ষমতায় ফিরবে। আরও বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সমঝোতার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশের এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে সিএনএন যে শর্তগুলো প্রকাশ করেছে, সেগুলো পরে বদলে যাবে কিনা, বা মূল চুক্তিতেও একইভাবে সব বলা হয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। খোদ সিএনএনই বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা চুক্তি নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করে যাচ্ছেন। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর সিএনএন আবার নিজেদের প্রকাশিত শর্ত ও মূল চুক্তিতে থাকা শর্ত মিলিয়ে দেখবে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সিএনএনের প্রকাশিত শর্তগুলোর সঙ্গে মূল সমঝোতার মিল নেই।
অবশ্য ইরানের জন্য পারমাণবিক শর্ত, তাদের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার তহবিলের অর্থায়নজনিত বিষয়গুলো সমঝোতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই মুখপাত্র। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রি করতে দেবে। আর ইরান যদি পরে আলোচনায় নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করে, তাহলে তেহরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন তহবিল পেতে পারে।

মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত রোববার যে সমঝোতায় ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর করেছেন, সেটির মধ্যে এই শর্তগুলো রয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকটিতে দুই পক্ষ স্বাক্ষর করবে আগামীকাল শুক্রবার।

যা আছে শর্তে

সিএনএনের হাতে আসা শর্তে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে যুদ্ধ থামানোর কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। সমঝোতায় বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অন্যের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবে এবং একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।

এতে আরও বলা হয়েছে, এটি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ৬০ দিনের আলোচনার পথ সুগম হবে, যা নিয়ে যাবে চূড়ান্ত চুক্তির দিকে। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

শর্তে আছে, আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে, যা তেহরানকে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত সমঝোতায় ইরানের প্রতি আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করে নেবে।

সিএনএন প্রকাশিত শর্তে দেখা গেছে, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ইরান নিজেদের পরিশোধিত ইউরেনিয়াম নিয়ে কী করবে, সেটিও আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করবে। ওই আলোচনাতেই ঠিক করা হবে ইরানের পরমাণু-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা কীভাবে পূরণ করা হবে।

এদিকে চূড়ান্ত চুক্তির আগ পর্যন্ত ইরান নিজেদের পরমাণু কর্মসূচিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে শর্তে। বলা হয়েছে বিদেশের মাটিতে জব্দ রাখা ইরানি তহবিল ছাড়ের কথাও।

যা বলছেন জি৭ নেতারা

এদিকে জি৭ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সহায়তার প্রস্তাবও দিয়েছেন। পাশাপাশি তারা ওই প্রণালিতে টোলমুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভিত্তি বলে অভিহিত করেছেন।

ভবিষ্যতে আবারও হরমুজ প্রণালি প্রভাবিত হলে যাতে সমস্যা না হয়, সে লক্ষ্যে তারা নিজেদের জ্বালানি সরবরাহের ভিন্ন ভিন্ন পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন বলেও জানিয়েছেন। লেবাননে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com