মহানবী (সা.)–কে কটূক্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আইন চাইলেন এমপি হানজালা
Reporter Name
Update Time :
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
১০
Time View
মহানবী (সা.)–কে কটূক্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আইন চাইলেন এমপি হানজালা
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে আইন পাস করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের এমপি আবু সায়েদ মোহাম্মদ হানজালা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্দশ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি উত্থাপন করেন তিনি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাজি শরীয়াতুল্লাহর বংশের সন্তান। হাজি শরীয়াতুল্লাহ যেভাবে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় তিনিও সংসদে শোষিত ও ওলামায়ে কেরামদের কণ্ঠস্বর হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। হানজালা উল্লেখ করেন, দেশের ৩০ থেকে ৪০...
16
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে আইন পাস করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের এমপি আবু সায়েদ মোহাম্মদ হানজালা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্দশ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এ দাবি উত্থাপন করেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাজি শরীয়াতুল্লাহর বংশের সন্তান। হাজি শরীয়াতুল্লাহ যেভাবে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় তিনিও সংসদে শোষিত ও ওলামায়ে কেরামদের কণ্ঠস্বর হিসেবে দাঁড়িয়েছেন।
হানজালা উল্লেখ করেন, দেশের ৩০ থেকে ৪০ লাখ ওলামায়ে কেরাম এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছেন যেন তাদের মনের কথাটি জাতীয় সংসদে প্রতিধ্বনিত হয়।
ধর্মীয় অনুভূতির গুরুত্ব তুলে ধরে সংসদ সদস্য হানজালা বলেন, এ দেশের ৯২ ভাগ মানুষ মুসলমান। সাধারণ মানুষ হয়ত নিয়মিত নামাজ পড়েন না, কিন্তু মহানবী (সা.)-এর শানে সামান্যতম কটূক্তি করা হলে তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় এবং তারা রাজপথে নেমে আসেন। বারবার নবীকে নিয়ে অশ্লীল গালিগালাজ ও কটূক্তির ঘটনা ঘটছে এবং এর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে তিনি কটূক্তিকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান সম্বলিত আইন পাসের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে যারা মহানবী (সা.)-কে শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করে না, তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার জন্য আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি বাংলাদেশে একটি ইতিহাস রচনা করে যাবেন। আইনের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে, যারা নবীকে শেষ নবী হিসেবে মানবে না, তারা মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিতে পারবে না।
এই ঘোষণাটি জাতীয় সংসদ থেকে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে আবু সায়েদ মোহাম্মদ হানজালা বলেন, তিনি সবসময় ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সময় স্থানীয়রা তার কাছে ‘হাদি হত্যার’ সঠিক বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন।
সবশেষে তিনি মহানবী (সা.)-এর সম্মান রক্ষায় এবং ইসলামের মৌলিক আকিদা সংরক্ষণে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।
এর আগে বেশ কয়েকবার আলোচনায় আসেন এমপি আবু সায়েদ মোহাম্মদ হানজালা।
জাতীয় সংসদে নামাজ আদায় করতে গিয়ে জুতা হারিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া ‘জঙ্গি এমপি’ অপবাদে সংসদে বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের নোটিশ দিয়েছিলেন এমপি হানজালা।