চট্টগ্রামের বিতর্কিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন, পরিচিত নাম ডেভিড ইমনকে তিন সহযোগীর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে। যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে চেকপোস্ট থেকে তাদের ধরে স্থানীয় পুলিশে খবর দিলে তারা আটক হন। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার জুরাইনের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের শামীম (২৮) এবং নোয়াখালীর সাহারপাড়ের সাফায়েত হোসেন (২৮)। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়; এই তথ্য পরে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বিকেল পৌনে তিনটায় নিশ্চিত করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছেন যে তারা যশোর হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরী ও রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এলাকায় চাঁদা দাবিই মূলত পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীদের কার্যক্রম; ছোট সাজ্জাদের গ্রেফতারের পর মোবারক ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান এই এলাকায় নেতৃত্ব দেন। তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ঘটনাই ঘটছিল, কিন্তু এবারের পর্যন্ত তারা বহু সময় ধরে পলাতক ছিলেন।
পুলিশ বলছে, গত ১৩ জুলাই চকবাজার এলাকার একটি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র দলে হামলা করে আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকা লুট করা হয়; ওই ঘটনার কয়েক দিন আগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আদিল বিন মামুনকে বিদেশি নম্বর থেকে ডেভিড ইমন হিসেবে পরিচয় দিয়ে দুই কোটি টাকা এককালীন ও প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ও ২৮ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে এবং বাড়িটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এর আগেও রোববার (২৬ জুলাই) রাতে নগরের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে ডেভিড ইমনের আরও দুই সহযোগী — মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪) — গ্রেফতার হয়েছিল; আসিফ ইতোমধ্যে একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত ছিলেন।