বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

প্রতিশ্রুতি অনেক, নয় মাসে কতটা বাস্তবায়ন করলো রাকসু?

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬
  • ২ Time View
4

৩৬ বছর পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ পুনরায় চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রত্যাশা ছিল অনেক। গত ১৬ অক্টোবরের নির্বাচনে সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট ২৩টির মধ্যে ২০টি পদ জেতে এবং নির্বাচনী ইশতেহারে আবাসন ব্যবস্থা সমাধান, হলের খাবারের মানোন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন, প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশন, গবেষণা সহায়তা ও পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসিসহ নানা বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় নয় মাস পরে কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও বড় দফায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির অধিকাংশ এখনো মুল্যায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই সময়ে যে কাজগুলো করা হয়েছে তা হল: কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও কয়েকটি হলের রিডিং রুমে এসি বসানো, বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন, ক্যাম্পাসে ফার্মেসি চালু, নারী উদ্যোক্তা মেলা আয়োজন, থিসিস প্রণোদনা প্রদান এবং বিদেশি অধ্যাপকদের অংশগ্রহণে সেমিনার। পাশাপাশি এআই, ডিজিটাল নিরাপত্তা, ফ্যাক্ট-চেকিং, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ওয়ার্ডপ্রেস ও রিসার্চ মেথডলোজি ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে আইইএলটিএস প্রস্তুতি ও ক্রীড়া কার্যক্রম ও ভেন্যু ফি কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, এসব উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও আবাসন সংকট, অনাবাসিকদের ভাতা, বাস ট্রিপ-রুট পুনর্গঠন, মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার, অন-ক্যাম্পাস জব এবং পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়ন জাতীয় পর্যায়ের বড় প্রতিশ্রুতির তুলনায় সীমিত। বিশেষ করে হলের খাবারের মান চাওয়া মতো বদলায়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেছে অনেকে।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র: কিছু শাখার শিক্ষার্থীদের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির তুলনায় বাস্তব অগ্রগতি ধীরগতির এবং দলীয় অগ্রাধিকার দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে রাকসু নেতৃত্ব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, বাজেট সীমাবদ্ধতা ও সিন্ডিকেট অনুমোদনের প্রয়োজন উল্লেখ করে কাজ আটকে থাকা ব্যাখ্যা করছে। সম্মিলিত জোটের সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এম সালমান সাব্বির জানান, ইশতেহারের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন বা প্রক্রিয়াধীন এবং বড় প্রকল্পগুলো সঞ্চালনের জন্য অর্থ ও প্রশাসনিক সমন্বয় প্রয়োজন। সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি দীর্ঘমেয়াদি তাই সময় লাগবে, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৩,৩৭৫ কোটি টাকার বাজেটে সাতটি নতুন হলে নির্মাণের প্রস্তাব রাখা আছে, যা বাস্তবায়িত হলে সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব হবে। রাকসু কার্যকর রাখতে তারা নিয়মিত নির্বাচন ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com