খুলনা লবণচর এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা ও তাঁর পিতা ইলিয়াস চৌধুরী হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় হাইকোর্ট পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্তের মধ্যে পরিবর্তন এনেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হাইকোর্টের ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা অব্যাহত রেখেছে, তবে ধর্ষণ সংক্রান্ত রেফারেন্স খারিজ করে সেই দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরে লবণচর সদর এলাকার বুড়ো মৌলভীর দরগাহ পাড়ার ঢাকাইয়া হাউজে; আঘাত করে দু’জনকে কিল-ফড়িং করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়। পারভীনের ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বিপ্লব নিহতের পর জেলা থানায় ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তের সময় গ্রেফতার হওয়া এক আসামি লিটন স্বীকারোক্তি দেন যে মামলা পরবর্তী জবানবন্দিতে বলা হয়েছে পারভীনকে প্রথম ধর্ষণ করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
দুইটি মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ বিচারাধীন থেকে ২০১৯ সালে রায় ঘোষণা করে; দুটিতেই পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছিল। সেই রায়প্রতিষ্ঠাকরণ সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং মামলায় আসামিরা আপিল করেন। আপিল পর্যায়ে অভিযুক্তদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান; বাদীপক্ষে নেতৃত্ব দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম, সঙ্গে ছিলেন আল আসাফুর আলী রাজা, মো. নাজিমুদ্দীন ও মো. মাহমুদুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক।