ঢাকায় কয়েকদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, বাসাবো, মালিবাগ, উত্তরা ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ এত কম থাকে যে রান্না সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না; এক ঘণ্টার রান্না করতে দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক হিটার, ইন্ডাকশন চুলা বা রাইস কুকারে রান্না করছেন, আবার অনেকে বাইরে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় দৈনন্দিন খরচ বাড়ছে। মোহাম্মদপুরের এক গৃহিণী জানিয়েছেন সকালে স্কুলে পাঠানোর আগে নাস্তা তৈরি করা যাচ্ছে না এবং বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাচ্ছে; অন্যরা বলছেন দুপুর ও রাতে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হওয়ায় বারবার বাইরে থেকে খাবার আনা ব্যয় বাড়াচ্ছে।
সংকট কেবল আবাসিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই—রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম হওয়ার কারণে অনেক কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে বাধ্য হয়েছে, ফলস্বরূপ চালকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ালেও গ্যাস পাচ্ছেন না এবং আয় কমছে। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি—সবখাতেই স্বল্পচাপ চলছে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদ্যুতের ওপরও চাপ বাড়বে।
সরকারি ও জ্বালানি কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির ফলে পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজির (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন কিউবিক ফুট প্রতিদিন হ্রাস পেয়েছে বলে তিতাস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে; মেরামত না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের অধিভুক্ত অঞ্চলে স্বল্পচাপ চলতে পারে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ওয়াক্ত ইকবাল হাসান মাহমুদ গত ২৭ জুলাই বিআইপিএসএসের গোলটেবিলে বলেন, একটি ফ্লোটিং এলএনজি (এফএসআরইউ)-তে আগুন লাগায় এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো ১০–১৫ দিন লাগতে পারে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করার দাবি তুলেছেন।